টিকার দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান কি কমা উচিত? নানা মতের ভিড়ে কেন্দ্র তাড়াহুড়ো করতে নারাজ

আমাদের ভারত, ১২ জুন : কোভিড নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে টিকাকরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তা বলার অবকাশ রাখে না। সমীক্ষাও বলছে সেই কথা। তবে, কখনো টিকার অভাব, টিকাকরণের অপ্রতুল ব্যবস্থাপনা, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অনীহা এবং ভুল ধারণার কারণে টিকাকরণ প্রক্রিয়া খাপছাড়াও থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। তারই মধ্যেই এক টিকার দুটি ডোজের মধ্যবর্তী ব্যবধান নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

সম্প্রতি ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালের একটি সমীক্ষা থেকে পাওয়া গেছে যে, টিকার একটি ডোজ সংক্রমণ থেকে যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারে এবং দুটো ডোজের পর সংক্রমণ হলেও হাসপাতালে ভর্তির সম্ভাবনাও কমিয়ে দিতে পারে প্রায় ৭৭ শতাংশ।

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারী থেকে ৩০ এপ্রিল ৮ হাজার ৯৯১ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। প্রথম ডোজ নেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের কিছু জন আক্রান্ত হলেও মারা যাননি কেউ। এমনকি হাসপাতাল কিংবা আইসিইউতে ভর্তির সম্ভাবনাও অনেক কমেছে। যাঁরা দুটি ডোজই নিয়েছিলেন তাদের সংক্রমণের সম্ভাবনা ৬১ শতাংশ এবং হাসপাতালে ভর্তির সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ কমে গেছে বলে সমীক্ষার ফলাফলে জানা গেছে। এই সমীক্ষা থেকেই বোঝা যায় টিকাকরণের কার্যিকারিতা ঠিক কতটা ফলপ্রসু।

শুক্রবার আমেরিকার মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডঃ অ্যান্থনি ফৌচি টিকাকরণ সংক্রান্ত আলচনায় জানান, ভ্যাক্সিনের দুটি ডোজের দীর্ঘ ব্যবধান সংক্রমণের বিপদ আরও বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে এই ব্যবধান ভারতে পাওয়া কোভিডের ডেল্টা স্টেইনের ক্ষেত্রে বেশি আতঙ্কের। তাই যত দ্রুত সম্ভব সকলকে দুটি ডোজ দিয়ে আগামী ঢেউ আসার আগেই টিকাকরণ সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কিন্তু কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই গত মাসে কোভিশিল্ডের দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ১২-১৬ সপ্তাহ করেছে। এর আগেও ২৮ দিনের ব্যবধান বাড়িয়ে ৬-৮ সপ্তাহ করেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

ব্রিটেন-ও ভারতের মত দুটি ডোজের মধ্যে ব্যবধান ১২ সপ্তাহ রেখেছিলো। কিন্তু ডেল্টা স্টেইনের আতঙ্ক সেখানে বাড়তে থাকায় সেই ব্যবধান কমিয়ে নেয় ব্রিটিশ সরকার।

ভারতেও এই ডোজের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে বহুবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। ডঃ ফৌচির মন্তব্য সামনে আসার পর সেই প্রশ্নের ঝড় আরও তীব্র হয়।
তার পরই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ হরষবর্ধন জানিয়েছেন, এখনই তাড়াহুড়ো করে ব্যবধান পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। পরে পর্যালোচনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতেই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
তবে নীতি আয়োগের সদস্য ডঃ ভি কে পল বারংবার ডোজের ব্যবধান কম থাকাকেই যুক্তিপূর্ন ও বিজ্ঞানসম্মত বলে দাবি করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ব্যবধান কম রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তাই এই বিষয়ে বিষদে চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে হু-র বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করেই যখন বলেছেন তাদের পরামর্শকে সন্মান দেওয়া উচিত।

তবে তিনি এও বলেন যে, এ বিষয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে নেওয়া হবে। ব্যবধান নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই বলেই তার দাবি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here