থানায় হামলা তৃণমূলের, গোসাবায় উত্তেজনা

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১৩ সেপ্টেম্বর: এলাকায় অশান্তি করার অপরাধে চার তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা ব্লকের অন্তর্গত সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় রাধানগর তারানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তারানগর চরপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় অসিত দলুই, পঞ্চানন দলুই, সুখরঞ্জন বারুই ও বিশ্বজিৎ দলুই নামে চার তৃণমূল কর্মী। একই ঘটনায় দেবশঙ্কর বারুই ও ভোলানাথ দাস নামে আরও দুই বিজেপি কর্মী গ্রেফতার হন।

তৃণমূলের দাবি, তাঁদের কর্মীরা সম্পূর্ণ নির্দোষ। সেই কর্মীদের ছেড়ে দিতে হবে। এই দাবিতে রবিবার সকালে সুন্দরবন কোস্টাল থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন প্রায় হাজার দুয়েক তৃণমূল কর্মী। বেশ কয়েকজন নেতা থানায় যান তৃণমূল কর্মীদের ছাড়িয়ে আনার জন্য। কিন্তু পুলিশ তাদের ছাড়তে না চাইলে পুলিশের সাথে বচসা বাধে তৃণমূল নেতাদের। এরপরই থানায় পুলিশকর্মীদের উপর চড়াও হয়ে হামলা চালায় তৃণমূল। থানা লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি করা হয়। ঘটনায় ২৪ জন পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

অভিযোগ, বেশ কয়েকদিন ধরে সুন্দরবন কোস্টাল থানার তারানগর গ্রামে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে নানা বিষয়ে অশান্তি লেগে রয়েছে। শনিবারও দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ বাঁধলে সন্ধ্যায় এসআই সুকুমার রুইদাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় গিয়ে তল্লাশি অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে এলাকা শান্ত রাখতে দুপক্ষের মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে চারজন তৃণমূলের। ধৃত এই তৃণমূল কর্মীদের ছাড়াতেই রবিবার সকালে সুন্দরবন কোস্টাল থানায় চড়াও হয় তৃণমূল। পুলিশ ধৃত তৃণমূল কর্মীদের ছাড়তে না চাইলে কার্যত জোর করে থানা থেকে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে তৃণমূল। পুলিশ কর্মীরা বাধা দিলে তাঁদের উপর চড়াও হয় তৃণমূল কর্মীরা। এরপর থানা লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে থাকেন তারা। ইটের ঘায়ে একের পর এক পুলিশ কর্মী আক্রান্ত হতে থাকেন। ইটের আঘাত থেকে বাঁচতে কার্যত থানার মধ্যে লুকাতে বাধ্য হন পুলিশ কর্মীরা। এরপর বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটান। পাশাপাশি লাঠি চালিয়ে তৃণমূল কর্মীদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। এই ঘটনায় এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়ায়।

পরে এসডিপিও ক্যানিং দেবীদয়াল কুন্ডুর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, থানার সামনে হাজার দুয়েক তৃণমূল কর্মী দলীয় পতাকা নিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখান। তারাই থানায় হামলা চালায়। থানা থেকে দুটি মোটর বাইক চুরি করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলাকার তৃণমূল নেতারা। এই ঘটনায় তৃণমূল নয়, বিজেপি জড়িত বলে দাবি করেছেন তারা।

গোসাবার তৃণমূল বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর বলেন,
“তৃণমূলকে বদনাম করার জন্য বিজেপি এটা করছে। থানায় হামলার ঘটনায় তৃণমূল নয়, জড়িত বিজেপি।”

অন্যদিকে বিজেপি নেতা সুবীর বর্মণ বলেন, “নিজেদের দোষ ঢাকতে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে তৃণমূল। এলাকায় কোন গনতন্ত্র নেই। পুলিশ ও এখানে নিরাপদ নয়। জয়ন্ত নস্করের হার্মাদ বাহিনী থানায় ঢুকে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। পুলিশ দোষীদের গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করুক।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here