তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে ফের উত্তপ্ত বাসন্তী, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু এক মহিলার, আহত দুই

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ২৪ জুলাই: শুক্রবার রাতে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার নেবুখালির সর্দার পাড়ায়। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে মনোয়ারা সর্দার(৪৬) নামে এক মহিলার। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মনোয়ারার ছেলে মঞ্জুর আলম সর্দার সহ নুরুল হাসান সর্দার নামে আরও দুই তৃণমূল কর্মী। এছাড়া বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা সকলেই তৃণমূলের অপর গোষ্ঠী জাকির শেখের নেতৃত্বে হামলা চালায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালে বাসন্তী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

এ বিষয়ে শনিবার বিকেলে নিহতের স্বামী মোনাব্বর সর্দার বাসন্তী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ। যদিও ঘটনার পরই ইউসুফ সর্দার ও ইদ্রিস মোল্লা নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ফুলমালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল কাদের হাতে থাকবে তা নিয়েই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ দীর্ঘদিন ধরে লেগে আছে এই এলাকায়। শুক্রবার রাতে মোটর বাইকে করে বাড়ি ফেরার সময় আচমকাই এলাকার তৃণমূল নেতা জাকির শেখের নেতৃত্বে যুব তৃণমূল কর্মী মঞ্জুর ও নুরুল হাসানের উপর অতর্কিতে হামলা হয়। তাঁদের চিৎকারে মনোয়ারা ছুটে এলে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ঐ মহিলা তৃণমূল কর্মীর। অন্যদিকে মঞ্জুর ও নুরুল হাসান গুলিবিদ্ধ হলে তাঁদের উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁদের কলকাতার ন্যাশানাল মেডক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

অন্যদিকে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে এলাকার মানুষরা দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। যদিও পুলিশ দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে রাত দুটো নাগাদ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে সক্ষম হয়। শনিবারও এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। যদিও এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব এটাকে গোষ্ঠী কোন্দল মানতে চাননি। তাঁদের দাবি পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। যদিও যুব তৃণমূল নেতা ইউসুফ মোল্লার দাবি, “তাঁদের হাতে থাকা ফুল মালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই এই অশান্তি শুরু করেছে জাকির শেখ, রাজা গাজিরা।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here