তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি, ভাঙ্গচুর বাসন্তীতে

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ২ ডিসেম্বর:
নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। রবিবার রাত থেকে এলাকায় যুব তৃণমূল ও মাদার তৃণমূল গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এলাকায় কয়েকশো বোমাবাজি হয় দুপক্ষের মধ্যে। ভাঙ্গচুর করা হয় বেশ কয়েকটি দোকান ও বাড়িতে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তী থানার ফুলমালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের নেবুখালি ও নির্দেশখালি এলাকায়।

গভীর রাত পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার গভীর রাতেই বাসন্তী থানার পুলিশ সহ এসডিপিও ক্যানিং দেবী দয়াল কুন্ডুর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে এলাকায় আসেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু। এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর তাজা বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার ঘটনায় উভয়পক্ষের মোট নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এলাকায়।

অভিযোগ পঞ্চায়েত গঠনের পর থেকেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে এলাকা দখলের চেষ্টা চলছে। যুব তৃণমূলের হাতে থাকা পঞ্চায়েত তারা একদিকে যেমন ধরে রাখতে উদ্দ্যত, তেমনি এই গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে নিতে উদ্দত মূল তৃণমূল কর্মীরা। এই নিয়েই কার্যত বাসন্তী এলাকায় অশান্তি চলছে। রবিবার রাত নটা নাগাদ আচমকা নেবুখালি বাজারে শুরু হয় বোমাবাজি। যুব তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, এলাকা দখলের জন্য মূল তৃণমূল কর্মীরা বোমাবাজি করে। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য জলিল লস্করকে খুনের জন্যই তৃণমূলরা এলাকায় বোমাবাজি করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছেন এলাকায় যুব তৃণমূল কর্মীরা নিজেরাই অশান্তি ছড়িয়েছে, বোমাবাজি করেছে। নিজেদের দোষ ঢাকতে তৃণমূল কর্মীদের নাম জরানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করুক।

ঘটনার পর এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশি টহলদারি চলছে এলাকায়। অন্যদিকে রবিবার রাতে তল্লাশির নাম করে এলাকার বেশ কিছু যুব তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ভাঙ্গচুরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here