ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৬ মে:
ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল প্রধানের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে এলাকাবাসীরা তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

জানাযায়, আমফান ঝড়ে তেহট্টর চিলাখালি গ্রামের ১৪৬ নম্বর বুথের পিডব্লিউডির জমিতে থাকা আম গাছটা পড়ে যায়। এলাকার মানুষের অভিযোগ, শ্যামনগর পঞ্চায়েতের প্রধান বাসুদেব ঘোষ গোপনে গাছটা কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। এরপরে গ্রামবাসীরা তা দেখতে পেয়ে প্রধান এবং প্রধানের সাথে থাকা আরো একজনকে বাধা দেন এবং প্রধানকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে পুলিশ এসে প্রধানকে উন্মত্ত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রধান তাঁকে এবং তাঁর কর্মীকে হেনস্থা করার অভিযোগে সাতজনের নামে তেহট্ট লথানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার সত্যতা জানতে শ্যামনগরের প্রধান বাসুদেব ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমফান ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে পড়েছিল মেন রাস্তার ওপর। বকুলতলা সংলগ্ন এলাকায় একটা আম গাছ পড়েছিল। ফলে রাস্তা আটকে যায়। মানুষ চলাচল করতে পারছিল না। বিডিওর মৌখিক নির্দেশ ছিল গাছটা রাস্তা থেকে সরিয়ে দেবার জন্য। যাতে যাতায়াতের কোনো সমস্যা না হয়। সেই নিয়ে একটা ঝামেলা হয়েছে। আমাকে চোরের অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমাকে এবং আমার পঞ্চায়েত কর্মীকে হেনস্থা করা হয়েছে। আমি সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি।

তেহট্টর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক অচ্যুতানন্দ পাঠকের কাছে ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রধানকে বলেছিলাম রাস্তার ধারের গাছগুলোকে মার্কিং করে রাখতে। যাতে অন্য কেউ না নিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি যদি ঝড়ের পর গাছ পড়ে এলাকাবাসীর সমস্যা হয় তাহলে যত দ্রুত সম্ভব গাছটা যাতায়াতের পথ থেকে সরিয়ে দেবার জন্য। তবে সেইসময় প্রাথমিক একটা সমস্যা হয়েছিল। এখন সেটা মিটে গেছে। নতুন করে কিছু হলে আমার জানা নেই।

বামফ্রন্টের তেহট্ট দক্ষিণ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সুবোধ বিশ্বাস জানান, এত বড় একটা ঘূর্ণিঝড়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু গাছপালা পড়েছে। যে দফতরগুলো আছে সেই দফতরগুলো গাছ তুলে নিয়ে যাবে। বিডিও সাহেব বিষয়টাকে চেপে যাচ্ছেন। বিডিও সাহেব মৌখিকভাবে কোনও নির্দেশ দেননি। যেদিন অভিযোগ করা হয়েছে তখনো তিনি বলেননি যে তিনি মৌখিকভাবে কোনও নির্দেশ দিয়েছেন। বিডিও সাহেব তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন। প্রধান নিজের মতো করে গাছটা কেটে নিয়ে আত্মসাৎ করতে যাচ্ছিলেন। গ্রামবাসীরা অরবিন্দ বিশ্বাস নামে একজনকে বাধা দেন। যিনি গাছটা কেটে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একজন সরকারি কর্মচারী সেখানে গিয়ে নাম্বারিং করতে যান। তখন গ্রামবাসীরা বলেন যে নাম্বারিং করা যাবে না। এরপর প্রধান সেখানে আসেন। প্রধানকে ঘিরে মানুষ বিক্ষোভ দেখায় এবং প্রধান জোর করে গাছটা তুলে আনবার চেষ্টা করে। মানুষ তুলতে দেয় না। পরে পুলিশ গিয়ে গাছটাকে পঞ্চায়েত সদস্য হাফিজুল শেখের জিম্মায় রেখে জনরোষের হাত থেকে প্রধানকে উদ্ধার করে নিয়ে চলে যায়।

বিজেপির নদিয়া জেলার উত্তরের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অর্জুন বিশ্বাস জানান, প্রধান অবৈধভাবে কাঠ ব্যবসায়ীদের নিয়ে এসে গাছটা চালান করার চেষ্টা করেছিল। এর আগে শ্যামনগরে অনেক ঘটনা ঘটেছে। যখনই কোনও ঝড় বৃষ্টি হয় তখন এরকম অনেক গাছ সুযোগ বুঝে বিক্রি করে দেয়। সেই জন্য গ্রামবাসীরা প্রধানকে আটকেছে এবং গাছ কেটে এখানেই রেখে দিতে হবে ওরা বলেছে। ও তুলেই নিয়ে যাচ্ছিল। গাছ সরানোর ইচ্ছে থাকলে গাছ কেটে পাশে রেখে দিত। রাস্তা থেকে গাছ সরানো এক জিনিস, আর চুরির বিষয় আরেক জিনিস। প্রধান যদি গাছটা কেটে সরিয়ে রাখতো তাহলে গ্রামবাসীরা কিছু বলতো না কিন্তু গ্রামবাসীরা যখন দেখল গাড়ি নিয়ে গাছ কেটে তুলে নিয়ে যাচ্ছে তখন তারা বাধা দিয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here