ফেসবুকে বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র! বিপুল টাকা থাকা সত্ত্বেও কাজ করছে না পঞ্চায়েতগুলি

আমাদের ভারত, ৮ জুন: হাতে বিপুল পরিমাণে টাকা থাকলেও কৃষ্ণনগর এলাকার বহু পঞ্চায়েত সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে কাজ করছে না।ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে এমনটাই অভিযোগ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অথচ কৃষ্ণনগর অর্থাৎ তার সংসদীয় এলাকার ৯০ শতাংশ পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে। হঠাৎ প্রকাশ্যে কেন এই তৃণমূল সাংসদ নিজের দলের পরিচালিত পঞ্চায়েতের কাজের সমালোচনা করতে শুরু করলেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।

সাংসদ বলেন চতুর্দশ অর্থ কমিশন ও পারফরম্যান্স বেস্ট ব্র্যান্ড মিলিয়ে গড়ে প্রতিবছর প্রতিটি পঞ্চায়েত ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা পেয়ে থাকে, অর্থাৎ পাঁচ বছরে একটি পঞ্চায়েত কমপক্ষে ৫-৬ কোটি টাকা পায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বহু পঞ্চায়েত পুরনো টাকা খরচ করতে পারেনি।

সাংসদ বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই টাকার ৬০ শতাংশ খরচ করার নিয়ম। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা হয়নি বহু ক্ষেত্রে। সাংসদের মতে এই বিরাট পরিমাণের টাকা যদি গ্রামীণ এলাকায় সঠিক পরিকল্পনা করে খরচ করা যায় তাহলে গ্রামে একটিও কাঁচা রাস্তা থাকবে না। অথচ তিনি বলেন,” আমি যখনই এলাকায় যায় তখনই আমাকে মানুষ বলে দিদি রাস্তা করে দিন”।

তৃণমূল সাংসদ আরো বলেন, ২০১৪ সালের রাজ্য সরকারের তরফে বলে দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ টাকার বেশি কাজ করলে তা ই-টেন্ডার করতে হবে। আর এই ই টেন্ডার করতে হবে,সেই কারণে অনেক পঞ্চায়েত পাঁচ লাখ টাকা বেশি কাজ করেনি। এছাড়াও সাড়ে তিন লাখের বেশি টাকার কাজ হলে ব্লকের আধিকারিক সেই কাজ রিভিউ করবেন। তাই দেখা যাচ্ছে ৫০ লাখ টাকার কাজ হচ্ছে ২৫টি স্কিমে অর্থাৎ গড়ের দু’লাখ টাকার কাজ হচ্ছে। আর ওই টাকা দিয়ে ৫০-৬০ মিটারের ছোট ছোট রাস্তা হলেও বড় রাস্তা হচ্ছে না।

তাই পঞ্চায়েত গুলির উদ্দেশ্যে সংসদ বলেন, বড় রাস্তা করতে হবে, নিকাশের নালা করতে হবে,লেডিস টয়লেট, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির ইউনিট তৈরি করতে হবে। বড় কাজ হয়ে গেলে ছোট ছোট কাজ করুন। ১০০ দিনের কাজ করান। গ্রামের মানুষ ১০০ দিনের কাজ করতে চাইছে। কোনোভাবেই টাকা ফেলে রাখবেন না বলে জোর দিয়ে বলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

ফেসবুকে মহুয়া মৈত্রের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, তৃণমূল সাংসদের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকখানি তিনি একমত। তার কথা এর থেকে প্রমাণিত তৃণমূলের আমলে রাজ‌্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। সেলিম আরও বলেন, এর আগে রাজ্যের শাসকদলের তৃণমূল স্তরের দুর্নীতি নিয়ে মুখর হয়েছিলেন তাদের আর এক সাংসদ কবির সুমন। তার জন্য তাকে দল অতিথির খেতাব দিয়েছিলেন। তাই মহুয়া মৈত্রের সঙ্গেও তেমন কিছু হতে পারে খুব শীঘ্রই।

অন্যদিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা প্রশ্ন তোলেন, হঠাৎ কেন তিনি নিজের দলের পরিচালিত পঞ্চায়েতের কাজের সমালোচনায় মুখর হলেন? তাহলে কি দলের খারাপ পরিস্থিতিতে নিজের পিঠ বাঁচাতে এই বক্তব্য রেখেছেন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here