আজকের দিনে

আমাদের ভারত, ৩১ জুলাই: আজ মহম্মদ রফির (২৪ ডিসেম্বর ১৯২৪ – ৩১ জুলাই ১৯৮০)তিরোধান দিবস। তিনি ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী। একসময় তিনি সমগ্র উপমহাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি সঙ্গীত ভুবনে সুদীর্ঘ চার দশক অতিবাহিত করেন। সঙ্গীত কলায় অসামান্য অবদান রাখায় শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে জাতীয় পদক এবং ৬-বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন মহম্মদ রফি। এছাড়াও, ১৯৬৭ সালে ভারত সরকার প্রদত্ত পদ্মশ্রী সম্মানেও অভিষিক্ত হয়েছেন তিনি।

প্রায় চল্লিশ বছর সময়কাল ধরে সঙ্গীত জগতে থাকাকালীন তিনি ছাব্বিশ হাজারেরও অধিক চলচ্চিত্রের গানে নেপথ্য গায়ক হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বহুবিধ গানে অংশ নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তারধ্যে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান, বিরহ-বিচ্ছেদ, উচ্চ মার্গের প্রেম-ভালবাসা, কাওয়ালী, ভজন, গজল-সহ বিভিন্ন গোত্রের গানে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন সমানভাবে। বিশেষ করে হিন্দি এবং উর্দু ভাষায় সমান দক্ষতা থাকায় তার গানগুলোতে বৈচিত্র্য এসেছে সমধিক।

হিন্দিসহ কোনকানি, উর্দু, ভোজপুরী, ওড়িয়া, পাঞ্জাবী, বাংলা, মারাঠী, সিন্ধী, কানাড়া, গুজরাতি, তেলেগু, মাঘী, মৈথিলী, অহমীয়া ইত্যাদি ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন। এছাড়াও আরও গান গেয়েছেন – ইংরেজি, ফার্সী, স্প্যানিশ এবং ডাচ ভাষায়।

২৪ জুলাই, ২০১০ ইং তারিখে টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর চমকপ্রদ কণ্ঠস্বরকে বিশেষভাবে মূল্যায়িত করা হয়েছে। আমি তোমাকে ভালবাসি বা (আই লাভ ইউ) বাক্যটিকে যদি ১০১ প্রকারে গান আকারে গাইতে বলা হয়, মহম্মদ রফি ঐ ১০১ প্রকারে তার সবটুকুই করতে পারতেন। প্রায় চার দশকের গানের ভুবনে অসাধারণ অবদানের জন্য মহম্মদ রফি তাই সকল সময়ের, সকল কালের ও সকল বিষয়ের শিল্পী হিসেবে পরিগণিত হয়ে আছেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here