মানবিকতার নজির, অসুস্থ যুবককে সেবার হাত বাড়িয়ে দিল ট্রাফিক পুলিশ

মানবিকতার নজির, অসুস্থ যুবককে সেবার হাত বাড়িয়ে দিল ট্রাফিক পুলিশ

আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ১৬ জুলাই: কথায় বলে ‘বাঘে ছুঁলে আঠেরো ঘা, পুলিশ ছুঁলে তার ডবল।’ একেবারে তার উল্টো ঘটল। ছত্রিশ ঘায়ের বদলে পথচলতি অসুস্থ যুবককে সুস্থ করে সহকর্মীদের হাতে তুলে দিল পুলিশ। মঙ্গলবার এমনই ঘটনার সাক্ষী রইল শিল্পশহর দুর্গাপুর।

 অসুস্থ যুবক বিকাশ দে, বীরভুমের দুবরাজপুরের কবিরাজ পাড়ার বাসিন্দা। পেশায় বর্ধমান পূর্তদফতরের কর্মী। এদিন সকালে দুর্গাপুর দফতরে চিঠি দিতে এসেছিল। ফেরার পথে সিটিসেন্টার ডিএমসি মোড় এলাকায় গরমে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে পড়ে সেখানে কর্মরত ট্রাফিকে থাকা পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিজেদের ট্রাফিক পোস্টে নিয়ে আসে। আর তারপর চলে সেবাশুশ্রূষা।

প্রত্যক্ষদর্শী সিভিক ভলান্টিয়ার জানান, “রাস্তার পাশে ল্যাম্পপোষ্ট ধরে দাঁড়িয়ে কাতরাচ্ছিল ওই যুবক। তাঁর কাঁপুনি দেখেই সন্দেহ হয়। ছুটে গিয়ে তাকে তুলে নিয়ে চেয়ারে বসালাম। পরনের জুতো, জামা খুলে দেওয়া হয়। তার পর মুখে, মাথায় জল দেওয়া হয়। দোকান থেকে ওআরএস এনে খাওয়ানো হয়।” ঘন্টাখানেক পর কিছুটা সুস্থবোধ করে যুবকটি। এদিকে তখন তার হাতের ফোন থেকে পরিচত দুর্গাপুরে পূর্তদফতরের কর্মীদের ফোন করা হয়। কিছুক্ষণ পর দফতরের সহকর্মীরা বিকাশকে হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। জানা গেছে, সকাল থেকে খালি পেটে ও গরমের কারনে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই যুবক। সুস্থ হওয়ার পর বিকাশ জানায়, “বাসস্ট্যান্ডে অসুস্থতার জন্য শুয়ে পড়েছিলাম। সেখানে কয়েকজন টটো ও অটো চালককে বললাম, কেউ গুরুত্ব দিল না। মুখ ফিরিয়ে নিল। তারপর কোনওভাবে ডিএমসি মোড় দিকে হেঁটে গেলাম। কিছুটা যাওয়ার পর আর হাঁটতে পারছিলাম। তাই ল্যাম্পপোষ্ট ধরে বসে পড়েছিলাম। গলা জড়িয়ে যাচ্ছিল, তাই চিৎকার করতে পারছিলাম। কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকর্মী না তুলে ধরলে হয়তো কোনও অঘটন ঘটতে পারত। ধন্যবাদ ওইসব ট্রাফিক পুলিশ অফিসার ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের।”       

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 9 =