বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা করে নিজেই ফ্যাসাদে পড়লেন বনগাঁর তৃণমূল নেত্রী আলোরানি, আদালত জানাল তিনি বাংলাদেশি

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২০ মে: বিজেপি বিধয়ক স্বপন মুজুমদারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূলের বনগাঁ জেলা সাংগঠনিক প্রাক্তন সভাপতি আলোরানি সরকার। তাঁর অভিযোগ ছিল, বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপি করেছেন। কিন্তু আদালত তাঁর অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলে, আলোরানি সরকার একজন বাংলাদেশি, তাই তিনি এই মামলা করতে পারেন না।

উল্লেখ, বিধানসভা ভোটে বনগাঁ দক্ষিণে বিজেপির স্বপন মজুমদারের কাছে ২ হাজার ৪ ভোটে পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী আলোরানি সরকার। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দেড় মাস পর, বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদারের বিরুদ্ধে ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেছিলেন আলোরানি সরকার। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিবেক চৌধুরী জানিয়ে দেন, আলোরানি সরকার একজন বাংলাদেশি তিনি এই মামলা করতে পারেন না। ফলে মামলা খারিজ হয়ে যায়।

বিজেপি পক্ষের আইনজীবী জাগৃতি মিশ্র বলেন, তারা এই বিষয়টা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন, কারণ আদালত জানিয়ে দিয়েছে যে আলোরানি সরকার একজন অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের প্রশ্ন, তৃণমূল কংগ্রেস কি করে একজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ভোটের প্রার্থী করার জন্য টিকিট দিয়েছিল? ফলে বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে এবার আলোরানির নাগরিকত্ব নিয়েই টানাপড়েনে পড়ে গিয়েছেন। বিজেপি পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এই ব্যাপার নিয়ে তারা সুপ্রিমকোর্টে যাবেন।

বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, আমি ভোটের আগে থেকেই জানিয়েছিলাম আলোরানি একজন বাংলাদেশি। বাংলাদেশে এখনও তাঁর পরিবার আছে। তিনি একজন অনুপ্রবেশকারী হয়ে কি করে ভোটের প্রার্থী হন এই ব্যপারে আমরা সুপ্রিম কোর্টে জানাব। যদিও তৃণমূল নেত্রী আলোরানি সরকারকে বারববার ফোন করলেও তিনি ফোন তোলেননি।

এবিষয়ে তৃণমূলের বনগাঁ জেলা সাংগঠনিক চেয়ারম্যান শংকর দত্ত বলেন, এব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই, আদালতের উপর আমাদের আস্থা আছে, আইন আইনের মতো চলবে, আমার কিছু বলার নেই। যা বলার উঁচুতলার নেতৃত্ব আছে তারা বলবেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here