মেয়ের শ্লীলতাহানি রুখতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু, গ্রেফতার অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা

আমাদের ভারত, হাওড়া, ২৪ জুন: তৃণমূল নেতার হাতে মেয়ের শ্লীলতাহানি রুখতে গিয়ে তৃণমূল নেতার ধাক্কায় সিঁড়ি থেকে পড়ে মৃত্যু হল মায়ের। মৃতার নাম সীমা দত্ত (৫২)। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে বাগনান থানার গোপালপুরে। মৃত মহিলার মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বাগনান থানার পুলিশ অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কুশ বেরা ও তার সহযোগী শোভন মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত কুশ বেরা স্থানীয় বাগনান ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যার স্বামী। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন শ্লীলতাহানি সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ও তার সহযোগী আগে থেকেই তরুণীর বাড়ির ছাদে উঠে লুকিয়েছিল। রাতে তরুণী ছাদে উঠলে অভিযুক্ত কুশ তরুণীর মুখ চেপে ধরে এবং শোভন তার পা চেপে ধরে তার শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। ঘটনায় তরুণী চিৎকার করে উঠলে তার মা সীমা দেবী তাকে বাঁচাতে ছাদে উঠলে কুশ তাকে ধাক্কা মেরে সিড়ি থেকে নিচে ফেলে দেয় এবং ছাদের পাশে থাকা গাছ বেয়ে নীচে নেমে পালিয়ে যায়। এদিকে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে সীমা দেবী মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে প্রথমে বাগনান গ্রামীণ হাসপাতাল পরে বুধবার সকালে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে এই ঘটনার পরেই আসরে নামে বিজেপি। দুপুরেই বাগনান পৌঁছে যান সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি এবং সৌমিত্র খাঁ। দুই সাংসদ তরুণীকে নিয়ে বাগনান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে ৬ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। প্রায় ঘন্টাখানেক অবরোধ চলার পর পুলিশ দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত হয়। এরপর দুই সাংসদ তরুণীকে নিয়ে তার বাড়িতে যান এবং তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এদিন লকেট অভিযোগ করেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা হওয়া সত্ত্বেও এই রাজ্যে মহিলাদের কোনও নিরাপত্তা নেই। বিশেষ করে যদি অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা হয় তাহলে সবক্ষেত্রেই ছাড়। তিনি বলেন, ঘটনায় দোষীরা গ্রেফতার না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন করবে।

অন্যদিকে দুই বিজেপি সাংসদ বাগনানে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এর পরেই পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে মূল অভিযুক্ত কুশ বেরা ও শোভন মন্ডলকে গ্রেফতার করে। যদিও এদিন অভিযুক্ত কুশ বেরার স্ত্রী তার স্বামীকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ তার স্বামী ঘটনাটি দেখে ফেলায় তার স্বামীকে ফাঁসানো হচ্ছে। এমনকি অভিযোগকারী তরুণীর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পঞ্চায়েত সদস্যা।

বিষয়টি নিয়ে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) রানা মুখোপাধ্যায় জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনায় তৃণমূল নেতার নাম জড়ানোয় তৃণমূলের হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি পুলক রায় জানান, পুলিশকে বলা হয়েছে রাজনীতি দল না দেখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে। অন্যদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেছেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here