মেয়ের ডাক্তারিতে ভর্তি নিয়ে অভিযোগ, তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের পাশে নেই দলের কেউ, কটাক্ষ সুকান্ত’র

আমাদের ভারত, ২৯ নভেম্বর: বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন শান্তনু সেন। তার মেয়ের ডাক্তারি পড়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন সুকান্ত মজুমদার। টুইটারে একাধিক নথি সহ অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এবার শান্তনুর আইনি নোটিসের বিরুদ্ধে আইনি পথেই লড়াই করার কথা জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ এই এত কিছুর মধ্যে শান্তনু সেনের পক্ষে তার দলের তরফে কেউ একটি কথাও বলেনি।তৃণমূলের অন্দরেই সাংসদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আইনি নোটিশের বিপক্ষে আইনি পথে লড়াই করব। আমি মিথ্যে বলিনি। জনতা সব দেখছে। এক লক্ষের উপরে র‌্যাঙ্ক করে আরজিকর মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়া কি ভাবে সম্ভব
হয়েছে? সহজ ও সত্য এই প্রশ্নই আমি তুলেছি। মানুষ এর সঠিক বিচার করতে সক্ষম।”

বিজেপি রাজ্য সভাপতির আরও দাবি, “তৃণমূল‌ দলের ভেতরে অনেকেই শান্তনু সেনকে পছন্দ করেন না। তার কার্যকলাপ তার ব্যবহার মেনে নিতে পারেন না। তাই এই ঘটনায় তারা তার বিপক্ষে।”

আজ এই ঘটনায় সংবাদ মাধ্যমের কাছে তৃণমূল সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে আইনি নোটিশ পাঠানোর কথা বলেন। একই সঙ্গে বার বার নিজের মেয়েকে আবারও মেধাবী বলে উল্লেখ করেন। এরপরই সুকান্ত মজুমদার টুইটারে লেখেন, “আমি টুইটারে বেশ কয়েকটি নথি শেয়ার করার পরেও টিএমসির তরফে কেউ শান্তনু সেনের পক্ষে কথা বলেননি। আশ্চর্যজনকভাবে তিনি সারাদিন টিভি চ্যানেলে সেই নেতৃত্বকে রক্ষা করে গেলেন।” অর্থাৎ খোদ তৃণমূলের অন্দরেই সাংসদে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন সুকান্ত মজুমদার।

রবিবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার টুইটারে দাবি করেছিলেন তৃণমূল সংসদ কন্যা সৌমিলি সেন নিট অর্থাৎ সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি, অথচ এমবিবিএস পড়ছেন। এর পাল্টায় মেয়ের বেশ কিছু সার্টিফিকেট টুইট করেন তৃণমূল সাংসদ। দাবি করেন তার মেয়ে বরাবর মেধাবী। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই তার রেজাল্ট দুর্দান্ত। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন নিট পাস না করে কেউ ডাক্তারি পড়তে পারেন না।

এরপর সুকান্ত মজুমদার সোমবার সেই টুইটের উত্তর দেন। নিট পরীক্ষার রেজাল্টে সৌমিলির ১ লক্ষ ২১ হাজার ৪৭৩ র‌্যাঙ্ক করা তালিকা তিনি টুইট করে লেখেন, “আপনি দাবি করেছিলেন আপনার মেয়ে মেধাবী। কিন্তু নিট পরীক্ষায় তার র‌্যাঙ্ক ১ লক্ষের বেশি। তাহলে কিভাবে সে ভর্তি হল আরজিকর মেডিকেল কলেজে?”

সুকান্ত দাবি করেন, সুবর্ণ বণিক সমাজ কোটায় ভর্তি করা হয়েছে সৌমিলি সেনকে। বিজেপি সাংসদের প্রশ্ন ছিল আর পাঁচ জন সাধারণ ছাত্র কি এই ফলের পরেও বিশেষ কোটায় আরজিকর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারবেন?

এরপর ফের শান্তনু সেন টুইটারে লেখেন, “বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও অভিযানের কথা মুখে, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও মহিলা ক্ষমতায়নের কথা বলে এক ডাক্তারি ছাত্রীকে আতঙ্কিত করে তুলেছেন। রাজনৈতিক ভাবে বাবার সঙ্গে লড়াই করতে না পেরে মেয়েকে আক্রমণ করা হচ্ছে।

কিন্তু তাতে কোনো ভাবেই দমে যাননি সুকান্ত। পাল্টায় কটাক্ষের সুরে তিনি লিখেছেন, “আমার তুলে ধরার নথিকে গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ।” অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন তার বলা কথা নস্যাৎ না করে তৃণমূল সাংসদ অন্য কথা লিখে আসলে তার কথাকে মান্যতা দিয়েছেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here