নিট পাশ না করেই কী ভাবে ডাক্তারি পড়ছে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের মেয়ে? লুকানো হয়েছে রোজগারও, সরব সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ২৭ নভেম্বর: নিট পাস না করেই মেয়ে ডাক্তারি পড়ছে। কিভাবে এমবিবিএস’য়ে ভর্তি হলেন? এমনই একাধিক প্রশ্ন তুলে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনকে তোপ দাগলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, ২০২০ সালের নিট পরীক্ষায় পাস না করেই এমবিবিএসে ভর্তি হন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সাংসদ শান্তনু সেনের মেয়ে সৌমিলি সেন।

এখানেই শেষ নয়, ভর্তির ফর্মে সাংসদ হিসেবে বাবা যে ভাতা পান সে কথাও উল্লেখ করেননি বলেও সৌমিলি সেন, অভিযোগ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। এমবিবিএস- এর ভর্তি ফর্মে সৌমিলি তার বাবার আয় তিন লক্ষ টাকা দেখিয়েছেন। অথচ ২০১৬-১৭ সালের হলফনামায় শান্তনু সেনের আয় ছিল ৭ লক্ষ টাকা, তার সঙ্গে সংসদের ভাতা রয়েছে। কেন এই ধরনের অস্বচ্ছতা? কেন এতো অমিল? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুকান্ত মজুমদার।

দুর্নীতি নিয়ে কিছুদিন আগেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। এবার সেই শান্তনু সেনের মেয়ের এমবিবিএস’য়ে ভর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। গত ২৪ নভেম্বর টেট দুর্নীতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেছিলেন শান্তনু সেন। লিখেছিলেন, শিক্ষকের চাকরিতে নিয়োগ প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তিনজনের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তুলেছিলেন। তার কয়েকদিনের মাথাতেই পাল্টা শান্তনু সেনকে আক্রমণ শানালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, তিনি সুবর্ণ বনিক কোটায় তার মেয়েকে ভর্তি করেছেন। অথচ এই কোটা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই আছে। দেশের অন্য রাজ্যে নেই। রাজ্যের এখনকার শাসকদলের নেতা মন্ত্রীদের আত্মীয় পরিজনদের জন্য এই কোটা বহাল রয়েছে।‌ সুকান্ত মজুমদার বলেন, এই তথ্য তুলে ধরে তিনি তৃণমূল নেতাদের অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতার আরও একটি ঘটনা রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরলেন।

ডাক্তারিতে রাজ্য স্তরে জয়েন্ট এখন আর নেই। যারা এমবিবিএসে ভর্তি হতে চান তাদের সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হয়। সেই পরীক্ষায় পাশ করলে তবেই ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন পেশায় চিকিৎসক। এমবিবিএস’য়ে ভর্তি হয়েছেন মেয়ে সৌমিলিও কিন্তু কিভাবে? সেই যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টুইট করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। আর তা নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে নয়া তরজা শুরু হয়ে গেছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here