“মাওবাদীদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ভোট করাতে চাইছে তৃণমূল”, পুরুলিয়ার হুড়ায় অভিযোগ লকেটের

সাথী দাস, আমাদের ভারত, পুরুলিয়া, ২ অক্টোবর: “মাওবাদীদের ঘাড়ে বন্ধুক রেখে ভোট করাতে চাইছে তৃণমূল।” আজ কৃষি আইনের সমর্থনে জেলা বিজেপির উদ্যোগে পুরুলিয়ার হুড়া ব্লকে কৃষক সুরক্ষা পদযাত্রায় যোগ দিয়ে এভাবেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুললেন বিজেপি সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি।

এই সাংসদ এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক  বলেন, মাওবাদীদের খতম করার জন্য তৃণমূল উঠে পড়ে লেগেছিল। মাওবাদী সন্ত্রাস থেকে মুক্ত হতে বাংলার মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। এখন মাওবাদী আর সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য নিচ্ছে ভোটের জন্য।”

এদিনের পথযাত্রা শেষে হুড়া মোড় এলাকায় কৃষি আইনের সমর্থনে পদযাত্রার শেষে একটি পথসভা করে বিজেপি। এদিনের কর্মসূচিতে লকেট চ্যাটার্জী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, জেলা বিজেপি সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী সহ অন্যান্য পদাধিকারী।

পদ যাত্রায় যোগ দেওয়ার সময় লকেট চ্যাটার্জি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন,”কেন্দ্র সরকার কৃষকদের স্বার্থে কৃষক সুরক্ষা আইন পাশ করেছে। অথচ বাংলার কৃষকদের ভুল বোঝাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্র সরকারের এই আইন কৃষকদের নতুন করে স্বাধীনতা দিয়েছে। আর তাই বিজেপি নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝানো হচ্ছে এই কৃষক আইন কৃষকদের আশীর্বাদ।” বিজেপির এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্য আকর্ষক লকেট সভায় হুমকির সুরে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ৭৫০ কোটি টাকার আলু দুর্নীতির ঘটনায় কার কার পকেটে ওই টাকা গেছে, নাকি ২০২১ এর নির্বাচনের সময় সেই টাকা কাজে লাগানো হবে, আমরা সরকারে এলেই এর তদন্ত হবে এবং দোষীরা শাস্তি পাবে।” হাথরসের ঘটনার বিষয়ে লকেট চ্যাটার্জী বলেন,”এই ঘটনায় যেই দোষী হোক না কেন দোষীদের কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি
চাই।”

এদিন পথযাত্রা শেষে হুড়া মোড় এলাকায় আয়োজিত হওয়া পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে লকেট চ্যাটার্জী বলেন, “আজকে মমতা ব্যানার্জীর উত্তরপ্রদেশের কথা বলছেন। ওঁর মুখে খুন ধর্ষণ নিয়ে কথা বলা মানায় না। শুধু উত্তরপ্রদেশ কেন, মহিলাদের উপর যাঁরা হাত দেবে তাঁদের কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি চাই সকলেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে একই ঘটনা ঘটছে ।” তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্র সরকার সকলের জন্য চাল পাঠাচ্ছে অথচ, ট্রেনে করে যখন সেই চাল পশ্চিমবঙ্গে আসছে সেই চাল সোজা চলে যাচ্ছে নেতা মন্ত্রীদের ঘরে। আর তাঁরা সেই চাল বিক্রি করছেন। তাই, আজকে একটাই স্লোগান থাকবে “চাল চোর তৃণমূল”। লকেট এই স্লোগান তোলেন সভায়। বক্তব্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগে সরব হন লকেট। তিনি বলেন, “তৃণমূলের উপর ভরসা করেছিল মানুষ যে মাওবাদীদের শেষ করবে। কিন্তু আজকের সেই মাওবাদীদের ঘাড়েই বন্ধুক রেখে ভোট করতে চাইছে তৃণমূল।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here