চোরাশিকারি ধরতে জলদাপাড়ার জন্য ট্রফি এবং বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জন্য সুইটিকে আনা হল

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ৫ জুলাই: চোরাশিকার বা বন্যজন্তর দেহাংশ পাচারের কবল থেকে উত্তরবঙ্গের দুই জঙ্গলকে আরও সুরক্ষিত করে তুলতে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াডের সংখ্যা বাড়ল। রাজ্যের পরিচিত দুটি জাতীয় উদ্যান জলদাপাড়ার জন্য ট্রফি এবং বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জন্য সুইটিকে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ৯মাস কঠিন প্রশিক্ষনের পর নিয়ে আসা হয়েছে উত্তরবঙ্গে।

উল্লেখ্য, জলদাপাড়াতে প্রশিক্ষিত কুকুর রানীকে প্রথম নিয়ে আসা হয়। এরপর বছর তিনেক আগে বক্সায় আসে বেলজিয়াম মেলোনিয়াস প্রজাতির প্রশিক্ষিত কুকুর করিম।তারপর আসে শেপার্ড প্রজাতির লিজা।

এবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডগ স্কোয়াডের নতুন সদস্য হিসেবে দায়িত্বে আরও এক জার্মান শেফার্ড। একসাথে তিনটি ট্রাকার ডগ থাকায় এবার বক্সার ডগস্কোয়াড প্রায় স্বয়ং সম্পুর্ন হল। তবে সকলকেই ছাপিয়ে করিম নামিয়ে একের পর এক ঘটনার তদন্তে সাফল্য আসে। করিমের এমন নজরকাড়া সাফল্য দেখেই বনকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন একাধিক প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে আসার। গতমাসে এমনই দুটি কুকুরের মধ্যে একটি সুন্দরবনে আরেকটি গরুমারাতে পাঠানো হয়।

ছবি: ট্রাকার ডগ সুইটি।

সুইটি এবং ট্রফি সম্পর্কে জানা গেছে, বাকিদের মত তারাও মধ্যপ্রদেশের ভোপালে পুলিশ অ্যাকাডেমিতে টানা ৯ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তাদের একজন হ্যান্ডলার ও অ্যাসিট্যান্ট সর্বক্ষণ তাদের সঙ্গেই রয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন প্রথা মেনে আজ থেকেই তাদের যাবতীয় কাজকর্ম শুরু হয়ে যাচ্ছে।যার মধ্যে কিছু কিছু ট্রেনিং, প্রাকটিস, গ্রুমিং রয়েছে।

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রাজাভাতখাওয়া ওয়েস্ট রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার অঙ্কন নন্দী বলেন,”করিমের পাশাপাশি এবার থেকে দায়িত্বে সুইটি থাকায় আমাদের যেকোনও তদন্তের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে।” বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের উপক্ষেত্র অধীকর্তা পশ্চিম কল্যাণ রাই বলেন, আমরা আশাবাদী করিমের কাছ থেকে যেমন সহযোগিতা পেয়ে এসেছি একইভাবে সুইটিও আমাদের কাজকে সহজ করে দেবে।’ শুধু বক্সা বাঘ বনের অংশই নয়, পুলিসের দিক থেকেও ডাক পড়েছে করিমের। চাপ বাড়ছিল করিমের উপর। এবার দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারবে দুই ট্রাকার ডগ।

অন্যদিকে, জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও কুমার বিমল জানান, “জলদাপাড়ায় সারাবছর চোরাশিকারির নজর থাকে। এতদিন আমাদের একমাত্র সদস্য ছিল রানি। এবার ট্রফি এসেছে। জঙ্গলে নজরদারি আর কড়াভাবে, নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হবে।”

জানা গেছে, নতুন দুই প্রশিক্ষিত কুকুরই পোচিং বা ঐজাতীয় অপরাধমূলক কাজের তদন্তে নেমে অনেক দূর পর্যন্ত চলে যেতে পারে। তীব্র ঘ্রান শক্তি থাকায়, শারীরিক ক্ষমতা বেশি থাকায় পাহার থেকে সমতল সর্বত্র পৌঁছে যেতে পারে। একটানা ৫ ঘন্টা চলতে পারে শেফার্ডগুলি।এদিকে, সবমিলিয়ে বক্সা ও জলদাপাড়ায় বনকর্মীদের সংখ্যা সীমিত। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুই জঙ্গলের ডগ স্কোয়াডে মোট ৫টি কুকুর চলে আসায় এবার দুই জাতীয় উদ্যানেই ডগ স্কোয়াড প্রায় স্বয়ং সম্পুর্ন হল মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
বনমন্ত্রী রাজিব ব্যানার্জি বলেন,”এটা ঠিকই ওরা মানুষ নয়।তবে অনেক ক্ষেত্রেই ওরা আমাদের কাছে ভরসার অন্যতম জায়গা। ওরা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করবে এই প্রত্যাশা রাখছি।প্রয়োজনে আর ট্রাকার ডগ নিয়ে আসবো আমরা।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here