অবরোধ পাশ কাটিয়ে যেতে চাওয়ায়, দুর্গাপুরে পথচারিকে সপাটে চড় সিপিএম নেতার

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৭ সেপ্টম্বর: অবরোধ পাশ কাটিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এক পথচারি। আর সেই কারণে তাঁকে সপাটে চড় মারার অভিযোগ উঠল অবরোধকারী সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে। এমনকি পথচারীকে ক্ষমাও চাওয়ানো হল। তবে তাতে মোটেই অনুতপ্ত নন অবরোধকারীরা। পাল্টা সহনশীল হওয়ার পরামর্শ দিলেন। এমনই নজির বিহীন ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের বাঁকুড়া মোড়ে। 

প্রসঙ্গত, সোমবার কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরোধিতায় দেশ জুড়ে বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল আন্দোলনকারী কৃষক সংগঠনগুলি। বন্‌ধকে সমর্থন জানিয়েছে বাম-সহ অন্যান্য কয়েকটি সংগঠনও। এদিন সাতসকালেই কর্মসূচি পালনে নেমে পড়েন দুর্গাপুরের বাম কর্মী-সমর্থক ও নেতারা। দুর্গাপুরের জাতীয় সড়কের মুচিপাড়া, স্টেশন সংলগ্ন বাঁকুড়া মোড়ে চলছিল তাঁদের অবরোধ। কোথাও পুড়ল নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা, আবার অবরোধের জেরে আটকে পড়েন বহু পথচারী, সাধারন মানুষ। এদিন বাঁকুড়া মোড়ে অবরোধে আটকে পড়ে বহু পথচারী। তার মধ্যে এক বাইক আরোহী অবরোধ পাশ কাটিয়ে যেতে চাওয়ায় বাম কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। তাতেই বকবিতন্ডা শুরু হয়। বাকবিতন্ডার মাঝেই সিপিএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার সপাটে চড় মারেন ওই বাইক আরোহীকে। তাঁকে দিয়ে ক্ষমাও চাইয়ে নেন সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা।

আর ওই ঘটনাকে ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দুর্গাপুরের বিজেপি কাউন্সিলার চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি বলেন, “বাংলার মানুষ অনেক অগেই বামেদের বাতিল করে দিয়েছে। যাদের জন্য বনধ করছে, সেসব খেটে খাওয়া মানুষদের প্রতি এই আচরন বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। গত বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় সিপিএম শূন্য হয়েছে। এবার বিলুপ্তির পথে যাবে।”

 যদিও ওই কাণ্ডে মোটেই অনুতপ্ত নন সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার। বরং তিনি দাবি করে বলেন, ‘‘আজকের বন্‌ধ ঘোষণা করা হয়েছিল আগেই। হঠাৎ করে ডাকা হয়নি। ফলে যাঁরা আটকে গিয়েছেন, তাঁদের সহনশীলতা দেখানো উচিত ছিল। কোথায় অবরোধ করব, তাও ঘোষিত ছিল। অনেকে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেছেন। তাতে তাঁরা সফল হননি।’’

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here