উন্নাও ধর্ষণ কান্ডে দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ জরিমানা ২৫ লক্ষ টাকা

আমাদের ভারত,২০ ডিসেম্বর:উন্নাও ধর্ষণ মামলায় অপরাধী বিজেপি প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ দিলো দিল্লী তিশ হাজারিরষ আদালত। এছাড়াও তাকে ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর কুলদীপ সেঙ্গারকে উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। আজ সাজা ঘোষণা করলেন বিচারপতি। ২০১৭ সালের জুন মাসে এক নাবালিকা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল দল থেকে বহিষ্কৃত বিজেপির এই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর সাজা ঘোষণা হল তার।

কিন্তু এর মাঝে ধর্ষিতার জীবনে ঘটে গেছে বহু ঘটনা। ধর্ষিতা হওয়ার অপরাধে দু-দুবার মৃত্যুর সামনে গিয়েছে সে। তবু লড়ছে ওই তরুণী। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। নিজের প্রান তো গেছেই। তার আগেই হারিয়েছে সে নিজের বাবাকে। হারিয়েছে নিজের কাকিমা ও বোনকে।

২০১৭ সালে নির্যাতিতাকে চাকরির লোভ দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত বিধায়ক তার সঙ্গীরা। একাধিকবার অভিযোগ জানালেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি তৎকালীন বিজেপির ওআ বিধায়ককে। শেষের ন্যায় বিচারের দাবীতে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাড়ির সামনে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে নির্যাতিতা। তখনই গোটা ঘটনা সামনে আসে। চাপে পড়ে কুলদীপ সেঙ্গারকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় পুলিশ। কিন্তু এরপরই কুলদীপ সেঙ্গারের অভিযোগেই বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ধর্ষিতার বাবাকে। অদ্ভুতভাবে কয়েকদিন পরেই জেলে মৃত্যু হয় তার।

এরপর জুলাই মাসে রায়বেরিলিতে যাওয়ার পথে ট্রাকের সঙ্গে ধর্ষিতার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় নির্যাতিতার কাকিমা ও বোনের। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় ওই ধর্ষিতা এবং তার আইনজীবী। ধর্ষিতার পরিবার অভিযোগ করে এই দুর্ঘটনা আসলে বিজেপির বিধায়ক এর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এরপরই তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সিবিআই চার্জশিট জমা দেয়। বিচার কাজ শুরু হয় দিল্লির তিল হাজারী আদালতে।

এরপর ১৬ ডিসেম্বর কুলদীপ সেঙ্গারকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৯ তারিখ সাজা ঘোষণাকরা কিন্তু নির্যাতিতাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সেঙ্গারের হলফনামায় তার সম্পত্তির পরিমাণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের কাছে সেঙ্গারের সম্পত্তির নথি জমা পড়ে। একদিন পিছিয়ে যায় সাজা ঘোষণা।

জমা পড়া নথী অনুযায়ী সেঙ্গারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৪ লক্ষ। শুনানির সময় নির্যাতিতা তরফে সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানানো হয়। অন্যদিকে সেঙ্গারের আইনজীবী বিধায়ক হিসেবে তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রসঙ্গ তুলে সাজা কম করারও দাবি জানান। কিন্তু সিবিআই সেঙ্গারকে কড়া ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি সহ নির্যাতিতাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে সাওয়াল করেছিল।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here