চাঁদা দিচ্ছে না বিভিন্ন সংগঠন, সমস্যায় শিলিগুড়ির পুজো উদ্যোক্তারা

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ২৮ সেপ্টেম্বর: দেশজুড়ে করোনার জেরে আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত বিভিন্ন সংগঠন। গতবছর থেকেই তারা কোনও ক্লাবকেই চাঁদা দিচ্ছেন না। পুজো যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্লাবগুলোকে টাকা দেওয়া হয়। তবে যা টাকা পাওয়া যায় তাই দিয়ে গোটা পুজো করা সম্ভব হচ্ছে না। এই কারণে আজ পুজোর বৈঠকে সরব হল ক্লাবের সদস্যরা।

বৈঠকে হাজির ছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক মন্ডলীর সদস্যরা। তাদের সামনেই বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যরা তাদের দাবি জানালেন। মহানন্দা স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষে অরূপ মজুমদার চাঁদার সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, করোনার কারণে গতবছর চাঁদা পাইনি বিভিন্ন সংগঠন থেকে। কিন্তু এবছর তো তেমন সমস্যা নেই। তারপরেও এবছরও কেউ চাঁদা দিতে চাইছে না। এতে আমরা বিপাকে পড়েছি। তাঁর এই বক্তব্যকে সমর্থন করেন অন্যান্য ক্লাবের সদস্যরাও। এছাড়া স্বস্তিকা যুবক সংঘ, অগ্রণী সংঘ সহ আরও অনেকে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানান।

ক্লাব সদস্যদের দাবি দাওয়া শুনে গৌতম দেব বলেন, আমাদের পুরনিগম এলাকায় ২৮০টি পুজো হয়। আর আমরা জানি চাঁদা ছাড়া পুজো করা কঠিন। কিন্তু গত দু’বছর ধরে যে পরিস্থিতি চলছে তার জন্যই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবুও আমি দু’দিনের মধ্যেই বণিকসভা সহ বিভিন্ন সংগঠনকে ডেকে বৈঠক করব। তাদের কাছে আমি অনুরোধ করব তারা যাতে সামর্থ্য অনুযায়ী পুজো কমিটিগুলোকে চাঁদা তুলে দেয়। এছাড়া তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর এই অল্প সময়েই বেশ কিছু কাজ করেছি। যে সকল রাস্তা ভাঙ্গা সেগুলোও দ্রুত ঠিক করে দেওয়া হবে। এমনকি হিলকার্ট রোডের বিকল্প রাস্তা করারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এবছর আমরা বিসর্জনে নতুনত্ব আনতে চাইছি। কলকাতার কার্নিভালের মত না হলেও ওই ধাঁচেই কিছু করা যায় কি না তার চিন্তভাবনা করা হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা এয়ারভিউ মোড়ে একটি মঞ্চ করে সেখানে নাচ-গানের অনুষ্ঠান করা হবে। সারা হিলকার্ট রোড জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় এলইডি টিভি লাগানো হবে। যাতে সকলেই খুব সহজে নিরঞ্জন দেখতে পান। এছাড়াও শব্দহীন বাজি দিয়ে প্রদর্শনী করা হবে ফাঁকা মাঠে। করোনায় দমবন্ধ শহরবাসীকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই এই পরিকল্পনা আমাদের।  

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here