মহরমের মিছিলে অস্ত্রের প্রদর্শনে অনুমতি ছিল কি না জানতে চেয়ে রাজ্যকে চিঠি দিচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

মহরমের মিছিলে অস্ত্রের প্রদর্শনে অনুমতি ছিল কি না জানতে চেয়ে রাজ্যকে চিঠি দিচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

নীল বনিক, আমাদের ভারত, ১১ সেপ্টেম্বর: মহরমের মিছিলে অস্ত্রের প্রদর্শনে রাজ্যকে চিঠি দিচ্ছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। মঙ্গলবার মহরমের মিছিলে অস্ত্র ব্যবহারে পুলিশের অনুমতি ছিল কিনা, তা জানতে চেয়েই এই চিঠি দেবে হিন্দু সংগঠনটি।

প্রতি বছরের মত মহরমের অঙ্গ হিসাবে ধর্মীয় শোভাযাত্রায় অস্ত্রের প্রদর্শন হয়। অস্ত্র, লাঠি নিয়ে নানা কসরত দেখান মুসলিম যুবকরা। গতকাল হুগলীর চন্দননগরে খেলা দেখানোর সময় মহরমের মিছিল থেকে তলোয়ার ছিটকে আহত হন চন্দননগর থানার পুলিশ কর্মী রাজীব পাল। সহকর্মী সহ সাধারণ মানুষ তাঁকে উদ্ধার করে চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তাঁর আঘাত গুরুতর থাকায় সেখান থেকে তাঁকে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই নিয়ে হইচই হওয়ার পর আজ বুধবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মাঠে নামছে। মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শনের অনুমতি ছিল কি না তা নবান্নের কাছে জানতে চেয়ে আরটিআই করবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। বুধবার এইকথা জানান রাজ্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ক্ষেত্রীয় নেতা শচীন্দ্র নাথ সিংহ।

Maha Ram

তিনি বলেন, রাম নবমীতে অস্ত্র মিছিল হওয়ায় বহু হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল পুলিশ। বর্ধমান, পুরুলিয়া, বহরমপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাম নবমীর মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শন হওয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছিল বজরং দলের সদস্যদের। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করেছিল রাজ্য পুলিশ। প্রায় ১০০ দিন পরে বজরং দলের সদস্যরা জামিন পেয়েছিলেন। এখনও বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে।


ছবি: বাঁদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা শচীন্দ্র নাথ সিংহ।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার মালদার কালিয়াচক, হুগলীর চন্দননগর, বীরভূমের বোলপুর সহ একাধিক জায়গায় মহরমের মিছিলে অস্ত্রের প্রদর্শন দেখা গিয়েছে। হিন্দুরা রাম নবমীর মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শন করলে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর মহরমের মিছিলে অস্ত্রের প্রদর্শনে রাজ্য পুলিশ নিরব থাকে বলে অভিযোগ করেন এই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা। এরপরেই সরাসরি রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন চন্দননগরে মহরমের তাজিয়া নিয়ে যাবার সময় অস্ত্রের আঘাতে এক পুলিশ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সেই মিছিলের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট কী ব্যবস্থা গ্রহন করবে তাও আরটিআইয়ের মাধ্যমে জানতে চাইবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

নবান্নের কাছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তথ্য জানার অধিকারে জানতে চাইবে রাজ্যে কতগুলি মহরমের মিছিলে অস্ত্র ব্যবহার হয়েছিল। যে মিছিলে অস্ত্র ব্যবহার হয়েছিল স্থানীয় থানা তার অনুমতি দিয়েছিল কি না? যদি না দিয়ে থাকে তাহলে পুলিশ কী ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। এইসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সরাসরি নবান্নে আরটিআই করবে। নবান্নের আরটিআইয়ের উত্তর আসার পরেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাদের নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে বলে জানান শচীন্দ্রনাথ সিংহ।


ছবি: আহত পুলিশ কর্মী রাজিব পাল।

প্রসঙ্গত, রাম নবমীর আগে রাজ্য পুলিশের থেকে নোটিফিকেশান করে বলা হয় রাম নবমীর শোভাযাত্রাতে অস্ত্রের ব্যবহার বেআইনি। অস্ত্রের ব্যবহার হলে সেই মিছিলের অনুমতি বাতিল করবে পুলিশ। তাছাড়া, আইন অনুয়ায়ী পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তুু মহরমের আগে অস্ত্র মিছিল না করার জন্য পুলিশ কোনও নোটিফিকেশন করে নি বলে অভিযোগ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের। তুষ্টি করণের রাজনীতি করতে গিয়ে এরাজ্যে হিন্দুরা বিপন্ন হচ্ছে অভিযোগ করেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা শচীন্দ্রনাথ সিংহ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × three =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.