উচ্চশিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী শিল্পপতিদের এগিয়ে আসার আর্জি উপাচার্যের

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৭ ডিসেম্বর: উচ্চশিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী শিল্পপতিদের এগিয়ে আসার আবেদন করলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ সুরঞ্জন দাস। বুধবার ‘রিসার্চ মেথডোলজি’ নিয়ে সপ্তাহব্যাপী এক শিক্ষাশিবিরের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এই আবেদন করেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষণের গোটা বিষয়টি আমূল বদলে যাচ্ছে। আমাদের সকলকে এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে।

বাবা সাহেব অম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির (বিএসএইইউ, পূর্বতন দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং, এডুকেশন, প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন) উপাচার্য ডঃ সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইগনু) প্রাক্তন অধিকর্তা ডঃ সি আর কে মূর্তি এ ধরণের শিক্ষাশিবিরের গুরুত্বের কথা বলেন। ধন্যবাদ জানান উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার কুণালকান্তি ঝা। অনুষ্ঠান সংযোজনায় ছিলেন শিবিরের অধিকর্তা অধ্যাপক ডঃ বিশ্বজিৎ বালা।

“বিশ্ব সাথে যোগে যেথায় বিহারো
সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও।“ বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত ও সরস্বতী বন্দনা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের পর ভাষণে ডঃ সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের মান-মর্যাদা অনেকটাই নির্ভর করে গবেষণার ওপর। কারা অর্থের যোগান দিচ্ছেন, কারা উপকৃত হচ্ছেন—এগুলোও বিচার্য বিষয়। গবেষণার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার একটা যোগসূত্র তৈরি হয়। শিক্ষার ঘরানা বদলে যাচ্ছে। বিজ্ঞান, কলার প্রথাগত ক্ষেত্রগুলো ছাড়াও ক্রীড়াবিজ্ঞানের মত নতুন নতুন নানা ক্ষেত্রে গবেষণা হচ্ছে। মাত্রা পাচ্ছে জ্ঞানের উন্মেষের নানা দিক। এর জন্য গুরুত্ব বাড়ছে শিক্ষক ও পড়ুয়ার দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন।

জর্জ বার্নার্ড শ, ঋষি অরবিন্দ এবং ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট ভাবনার উল্লেখ করে ডঃ সুরঞ্জন দাস বলেন, “পড়ুয়ারা হলেন মৃত্তিকা, শিক্ষকরা বীজ। শিক্ষকতার মূল চারটি নীতি রয়েছে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায়, বিশেষত অতিমারী-পরবর্তী সময়-পরিস্থিতির দাবিতে এর ঘরানা বদলে যাচ্ছে। ‘টিচিং উইথ এন্ট্রিপ্রিনিয়রশিপ’, ‘মাল্টিপিল এন্ট্রি-এক্সিট‘, ‘ইনক্রিজ ইন এডুকেশন টেকনোলজি’— এগুলো ক্রমেই বিচার্য বিষয় হয়ে উঠেছে।”

‘ভার্চুয়াল মোড’ প্রসঙ্গে সুরঞ্জনবাবু বলেন, “বর্তমান চাহিদার সঙ্গে কীভাবে নন ফিজিক্যাল মোডের সুচারু মিশেল সম্ভব, আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। শেখানোর পক্ষে যেটা সুবিধাজনক, শেখার পক্ষে সেটা অনুকূল না-ও হতে পারে। নেটওয়ার্কিংটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষণের পরিধি বেঞ্চ আর ব্ল্যাকবোর্ডে আবদ্ধ রাখলে চলবে না। তবে, দেশীয় শিক্ষণপদ্ধতিতে গুরুত্ব দিতে হবে। সমতা রাখতে হবে চিরাচরিত প্রথা আর আধুনিকতার মধ্যে। তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবকে ঘিরে জ্ঞানের ছোট ছোট কুঠুরিতে আবদ্ধ থাকলে চলবে না। উচ্চশিক্ষায় মোট বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার। অতি উন্নত ও অনুন্নত দেশে এই বিনিয়োগের শতাংশে বিস্তর পার্থক্য। এ কারণেই অগ্রণী শিল্পপতিদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভাবনা ও উন্মেষের আঁতুরঘর হতে হবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here