কোয়ারেন্টিন সেন্টারে মহিলার সাথে অশালীনতার অভিযোগ ভিলেজ পুলিশের বিরুদ্ধে, জনতা পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ পাথর প্রতিমায়

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১০ জুলাই: দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথর প্রতিমা ব্লকের অন্তর্গত দিগম্বরপুর কর্ম তীর্থ কোয়ারেন্টিন সেন্টারে এক মহিলার সাথে ওই কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক ভিলেজ পুলিশ অশালীনতা করে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার রাতে সেই ছবি মোবাইল ক্যামেরায় বন্দিও করেন গ্রামবাসীরা। এরপর, শুক্রবার সকালে ওই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে তালা বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকার সাধারণ মানুষজন। অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশের শাস্তির দাবিতে এলাকার মানুষজন বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ঢোলাহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় তারা। পুলিশ অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশকে উদ্ধার করতে গেলে গ্রামবাসীরা বাধা দেন। তাতেই জনতা পুলিশ খণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

পাথর প্রতিমার দিগম্বরপুর কর্মতীর্থ সেন্টারে তৈরি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রামনগর আবাদ এলাকার এক মহিলা পরিযায়ী শ্রমিককে রাখা হয়। ওই কোয়ারেন্টিন সেন্টারের নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিলেজ পুলিশ জাহির আব্বাসের। গতকাল গভীর রাতে অভিযুক্ত জাহির ওই পরিযায়ী মহিলার কাছে যায় এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

এলাকার বেশ কিছু ছেলে তারা প্রথম থেকেই জাহির আব্বাসের উপর লক্ষ্য রাখছিল। আগেই তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। ওই মহিলার সাথে অশালীনতা শুরু করলে এলাকার কয়েকজন যুবক জানালা দিয়ে সেই ভিডিও মোবাইল ফোনে তোলে, পরে এলাকার লোকজন ডেকে কোয়ারেন্টিন সেন্টারের বাইরের গেটের তালা লাগিয়ে দেয় তারা।

সকাল হতেই হাজারেরও বেশি মানুষ এলাকায় ভিড় করতে থাকে। জাহির আব্বাসের শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে এলাকা। খবর যায় ঢোলাহাট থানায়। ঢোলাহাট থানার এক অফিসার সেখানে এসে মানুষকে বুঝিয়ে ওই মহিলা এবং জাহির আব্বাসকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গ্রামবাসীরা জাহির আব্বাসের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। হটাৎ দেখা যায় পুলিশ গাড়িতে করে জাহির আব্বাসকে তুলতে গেলে পুলিশের গাড়ির উপর ঝাঁপিয়ে পরে বিক্ষুব্ধ জনতা। পুলিশের গাড়ি ভাঙ্গচুর করে তারা। পাশের বাড়িতে থাকা ইটের টুকরো ছুড়তে থাকে পুলিশের দিকে। অসহায়ের মতো পুলিশ চতুর্দিকে দৌড়তে শুরু করে। বেসামাল হয়ে যায় জনতার অতর্কিত আক্রমণে। বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটের ঘায়ে এক অফিসার সহ বেশ কিছু সিভিক পুলিশ গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। শেষে বিশাল পুলিশবাহিনী আসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরিয়ে বেশকিছু মানুষ জনকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গিয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here