ঝালদার কুদলং গ্রামে রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে মৃত গ্রাহকের সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে সরব গ্রামবাসী

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৫ আগস্ট: মৃত ব্যক্তির রেশন সামগ্রী তুলে নিচ্ছে ডিলার, এই অভিযোগে সরব হলেন ঝালদার কুদলং গ্রামের গ্রাহকের একাংশ। ঝালদা থানার পুস্তি পঞ্চায়েতের কুদলং গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ডিলার কৃষ্ণ মাহাতো বহু মৃত ব্যক্তির রেশনের খাদ্য সামগ্রী আত্মসাৎ করছে। অভিযোগ করলে গ্রামের সরল মানুষকে অন্যভাবে বুঝিয়ে দেন। পরিবারের মৃত ব্যক্তির কার্ডগুলি সমর্পণ করতে দেন না তিনি।

ওই রেশন ডিলার গ্রামবাসীদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমি সব করে দেবো।” এইভাবেই তিনি ওই সব মৃত গ্রাহকদের রেশনের খাদ্য দ্রব্য আত্মসাৎ করছেন।গ্রামবাসীর আরও অভিযোগ, রেশন নেওয়ার পর কোনও ফর্দ বা বিল দেন না। ফলে গ্রাহকদের বরাদ্যকৃত প্রাপ্য অজানা থেকে যায়।

ওই গ্রামের গ্রাহক অজিত কুইরি বলেন, “আমার বাবা ফেব্রুয়ারি মাসে মারা গেছেন, দিদি দু’বছর আগে মারা যান। মারা যাওয়ার পর থেকে এঁদের রেশন কার্ড জমা দেওয়ার কথা ডিলারকে বললেই তিনি বলেন সব ঠিক করে দেব। তা ছাড়া ওই কার্ডের বরাদ্দকৃত রেশনের খাদ্য দ্রব্য নিজেই রেখে নেন, আমাদের দেন না ওই ডিলার।” এরকম ১৬ জনেরও বেশি মৃত ব্যক্তির রেশন কার্ডের বরাদ্দ খাদ্য দ্রব্য আত্মসাৎ করছেন ওই ডিলার। অভিযোগ স্থানীয় ক্ষিতিস মাহাতো, মহারাজ মাহাতোর। গ্রামবাসীরা এর তদন্ত চান। এছাড়া এতদিনের মৃত ব্যক্তিদের মালের হিসাব দিতে হবে ওই রেশন ডিলারকে। সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করতে হবে।

তার বিরুদ্ধে উঠা গ্রামবাসীদের অভিযোগ অস্বীকার করেন রেশন ডিলার কৃষ্ণ মাহাতো। বিষয়টি ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে ঝালদা ব্লক খাদ্য দফতরের আধিকারিক সুদীপ্ত জানা বলেন, “মৃত ব্যক্তির মাল তোলার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ওই অভিযোগ ছাড়াও স্থানীয় অজিতচন্দ্র কুইরি ও মহারাজ মাহাতো জানান, কুদলং গ্রামের উপর পাড়ার ১২০ টি পরিবার অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার যোগ্য অথচ, আজও আরএসকেওয়াই ১ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন। দেখা গিয়েছে এই গ্রামে কিছু সম্পন্ন বাড়ির লোকজন কেন্দ্রীয় অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনার আওতায় আনতে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিওকে লিখিত আকারে জানিয়েছেন বঞ্চিতরা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here