আমফান মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতা রাজ্যের

চিন্ময় ভট্টাচার্য, আমাদের ভারত, ১৯ মে: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তার পরই চরম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে ‘আমফান’। বুধবার দুপুরেই তা আছড়ে পড়বে দিঘা-মন্দারমনি উপকূলে। আজ, মঙ্গলবার আলিপুর আবহাওয়া দফতর তাই সতর্ক। ‘আমফান’-এর প্রতিটি গতিপ্রকৃতির দিকে কড়া নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।

তবে আমফান আগামিকাল এলেও আজ থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া-সহ বৃষ্টি শুরু হতে পারে বলে হাওয়া অফিস জানিয়েছে। হাওয়া অফিসের এক কর্তা বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা ছাড়াও কলকাতার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতায় এবং দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতায় আমফানের বেশি প্রভাব পড়তে পারে। ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। সেই সময় সমস্ত দোকান-বাজার বন্ধ রাখা এবং কাউকে রাস্তায় বের না-হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বর্তমানে দিঘা থেকে আর ৬৭০ কিলোমিটার দূরে মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে ‘আমফান’। এটি স্থলভাগে যখন প্রবেশ করবে, তখন এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার হতে পারে। শুধু তাই নয়, স্থানবিশেষে এই গতিবেগ ১৮০ কিমি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেই হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস। সেই সঙ্গে সমুদ্রে প্রবল জলোচ্ছ্বাসেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

এমনকী উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্র এবং নদীর জল নীচু এলাকায় ঢুকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দিঘা, মন্দারমণি, সুন্দরবনের সমুদ্র সৈকত এবং উপকূলবর্তী এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ‘তাই ‘আমফান’-এর মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে দিঘা থেকে সুন্দরবন-সহ সমস্ত উপকূলবর্তী এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। গভীর সমুদ্র থেকে মৎস্যজীবীদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

উপকূলবর্তী এলাকা ছাড়া হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়ায় আমফানের ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ ১১০-১৩০ কিলোমিটার থাকবে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে। তাই এই সমস্ত জেলা প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুরনিগম তো ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন নম্বরও চালু করেছে। সমস্ত বিপজ্জনক গাছ, ভবন এবং হোর্ডিংয়ে বিশেষ নজর রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, ‘আমফান’-এর মোকাবিলা করতে রাজ্যজুড়ে এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতা চলছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here