“১৬ আগস্ট তৃণমূল লিগের খেলা হবে, আমরা চিন্তিত,” বললেন রাহুল সিনহা

আমাদের ভারত, বর্ধমান, ২৪ জুলাই : পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলের রাজত্ব চলছে। একটা সরকার ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে সন্ত্রাসবাদ গোটা রাজ্যকে গ্রাস করবে কেউ কখনো ভাবেনি। বর্ধমানে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এইভাবেই সরকারকে একহাত নিলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা।

এদিন তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসে সরকার বিজয় উৎসব পালন করল বিজেপি কার্যকর্তাদের খুন করে, মহিলাদের শ্লীতাহানি সম্মানহানি করে, জেসিপি দিয়ে বাড়িঘর ভাঙ্গচুর করে। কিছুই তারা বাদ রাখেনি। রাজ্যজুড়ে এক লক্ষের বেশি কার্যকর্তা ঘরছাড়া ছিল। এখনও পর্যন্ত কয়েক হাজার কার্যকর্তা বাড়ির বাইরে আছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মানবাধিকার কমিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কমিশনকে এই ঘটনার তদন্ত করতে হয়েছে। এমনকি হাইকোর্ট বেঞ্চ তৈরি করে ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে এই নজির সারা ভারতবর্ষে নেই। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট খুবই লজ্জাজনক। বাংলার মান সম্মানকে সারাদেশের সামনে লুটিয়ে দিয়েছে। তাই ২৮ তারিখ কলকাতা হাইকোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ কি রায় দিচ্ছে বা কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সেটার দিকে বাংলার মানুষ তাকিয়ে আছে।

নন্দীগ্রামের নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, দুটো মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটা হাইকোর্টের রায় আর দ্বিতীয় হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে ছটফট শুরু করেছে নির্বাচন কিভাবে করানো যায়। নির্বাচন মানে উপনির্বাচন। পিছনের দরজা দিয়ে উনি ঢুকেছিলেন হারার পরেও পিছনের দরজা দিয়ে উনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আর এখন দেখছেন পিছনের দরজা দিয়ে ওনাকে বিদায় নিতে হবে তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলবো অধিক চেষ্টা না করতে।

নন্দীগ্রামের মানুষের রায়ের সম্মান সংবিধান দেবে। নন্দীগ্রামের মানুষ রায় দিয়েছিল যাতে উনি মুখ্যমন্ত্রী না থাকেন। এখানে এমএলএ না থাকার রায় দেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছে নন্দীগ্রামের মানুষ। কারণ সেখানকার মানুষ তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় না। নন্দীগ্রামে মানুষের রায়কে উপেক্ষা করে নন্দীগ্রামের মানুষকে চ্যালেঞ্জ করে পিছনের দরজা দিয়ে উনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। আর নন্দীগ্রামের মানুষ বাংলার মানুষ পিছনের দরজা দিয়ে টেনে বাইরে বের করে আনবে এটাই ভবিতব্য।

১৬ আগস্ট খেলা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নিয়ে রাহুল সিনহা বলেন, ভাগ্যিস ১৪ আগস্ট পাকিস্তান দিবসকে তিনি বেছে নেননি। তাহলে পাকিস্তান দিবস পালন করা হয়ে যেত। ১৬ আগস্ট মুসলিম লিগ তান্ডবলীলা চালিয়েছিল। আজ মুসলিম লিগ নেই পরিবর্তে তৃণমূল লিগ দিনটা পালনের চেষ্টা করছে। যা নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here