পরকীয়ার জের, স্বামীকে খুন করে মাটিতে পুঁতে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা নন্দকুমারে

আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১১ জুলাই: পরকীয়ার জেরে স্বামীকে খুন করে বাপের বাড়ির মধ্যে মাটিতে পুঁতে রাখল স্ত্রী। স্ত্রী ও প্রেমিককে নন্দকুমার থানার পুলিশ জেরা করে খুনের ঘটনা জানতে পারে। নন্দকুমার থানার ফতেপুরের ঘটনা।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার থানার ধান্যঘরের বাসিন্দা শেখ নুর মহম্মদের(৩৪) স্ত্রী আসমা বিবি এই এলাকার এক যুবক শেখ দুলালের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। গত তিন মাস আগে সেটা জানাজানি হয়। পরে গ্রাম্য সালিশি সভায় মিটমাট হয়ে যায় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তবে নূর মহম্মদের বড় ছেলে শেক আসাদুল জানিয়েছে, সালিশি সভার পরেও তার মায়ের সঙ্গে শেখ দুলালের সম্পর্ক ছিল।

কয়েকদিন আগে আসমা বিবি বাপের বাড়ি ফতেপুরে আসে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেখ নুর মহম্মদ শ্বশুরবাড়ি ফতেপুরে আসে কয়েকদিন আগে। তারপর গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। ফোন করেও তাকে না পেয়ে শেখ নূর মহম্মদের পরিবারের পক্ষ থেকে নন্দকুমার থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।


(আসমা বিবি ও তার প্রেমিক)

তদন্ত শুরু করার পরে নন্দকুমার থানার পুলিশ নুর মহম্মদের স্ত্রী আসমা বিবি এবং তার প্রেমিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের ঘটনা জানতে পারে। আজ নন্দকুমারের ফতেপুরে আসমা বিবির বাপের বাড়িতে এসে পুলিশ শেখ নূর মহম্মদের দেহ উদ্ধার করে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বাড়ির ভেতরের মেঝে খুঁড়ে মাটির তলা থেকে দেহ উদ্ধার করা হয় নূর মহম্মদের। খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য বাড়ির মেঝেয় নীচে মাটি খুঁড়ে সেখানে দেহ চাপা দিয়ে আবার মেঝে করে দেওয়া হয়। পুলিশ সেই মেঝে খুঁড়ে বাড়ির ভেতর থেকে নূর মহম্মদের মৃতদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে মৃতদেহটি।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এই ঘটনার সঙ্গে আরো বেশ কয়েকজন জড়িত। নন্দকুমার থানার পুলিশ নূর মহম্মদের স্ত্রী আসমা বিবি এবং তার প্রেমিক শেখ দুলালকে গ্রেফতার করেছে। পরিবারের দাবি খুনের ঘটনায় যুক্ত আসামীদের ফাঁসি চাই। এই ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার মানুষ উত্তেজিত হয়ে আসমা বিবির বাপের বাড়ি ভাঙ্গচুর করে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরো ঘটনার তদন্ত করে দেখছে নন্দকুমার থানার পুলিশ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here