৮ রাজ্যে হিন্দুরা কি সংখ্যালঘু তকমা পাবেন? কেন্দ্রকে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আমাদের ভারত, ১২ মে: মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ, কাশ্মীর, লাদাখ, পাঞ্জাব, ঝাড়খন্ড, লাক্ষাদ্বীপের মতো আটটি রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘু তকমা দেওয়া যায় কিনা কেন্দ্রকে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজ্যগুলির মতামত নিয়ে তার রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীদের প্রশ্ন ছিল যে সব রাজ্যে মুসলিম বা খ্রিস্টানরা সংখ্যালঘু নন সেই সব রাজ্যে ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা সংখ্যালঘু তকমা দেওয়া হবে না কেন? এদিকে সংবিধান অনুযায়ী কোনো সম্প্রদায়কে সংখ্যালঘু তকমা দিতে পারে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকার। তাই স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রকে দেশের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংখ্যালঘু তকমা দিতে হয়। ফলে অনেক রাজ্যে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়া সত্বেও সংখ্যালঘু হওয়ার সুবিধা পাওয়া যায় না।

সম্প্রতি একটি জনস্বার্থ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দিনে রাজ্যগুলিকে আলাদা করে সংখ্যালঘু ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়ার কথা তারা ভাবছে, অর্থাৎ কোনো রাজ্য চাইলে হিন্দুদের আলাদা করে সংখ্যালঘু তকমা দিতে পারবে। কেন্দ্রের এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের কাছে জানতে চাইল এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তারা আলোচনা করতে চায় কি না। যদি সেটা চায় তাহলে তা দ্রুত করা উচিত। রাজ্য গুলির সঙ্গে আলোচনার জন্য শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে তিন মাস সময় দিয়েছে। ৩০ আগস্টের মধ্যে এই নিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে মোদী সরকারকে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে এসব ইস্যুতে আলোচনা প্রয়োজন। সবকিছু বিচার করা যায় না।

সুপ্রিম কোর্টের ফলে আশা করা হচ্ছে, যেসব রাজ্যে হিন্দু জনসংখ্যা অন্যান্য ধর্মের জনসংখ্যা থেকে কম সে সব রাজ্যের হিন্দুদের সংখ্যালঘু তকমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরো খানিকটা গতি পেল বলে মনে করা হচ্ছে। আর শেষ পর্যন্ত রাজ্যগুলি যদি আলাদা করে জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংখ্যালঘু তকমা দেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে দেশের অন্তত আটটি রাজ্যের হিন্দুরা সংখ্যালঘু তকমা পাবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here