চিরাচরিত রীতি ভেঙে তামিলনাড়ুর মন্দিরে এবার পুজো করবেন মহিলা পুরোহিতরা

আমাদের ভারত, ২০ জুন: মন্দিরে ঈশ্বরসেবা কিংবা বিয়ে শ্রাদ্ধের মত সামাজিক অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করার অধিকার কি কেবল পুরুষের? –প্রশ্ন সর্বজনীন হয়েছিল ২০২০ সালের অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের পরিচালিত বাংলা ছবি ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্ম টি’তে। আধুনিক যুগে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব স্তরেই নিজের জায়গা করে নিয়েছে মহিলারা। সেখানে পৌরহিত্যের কাজ করতেও মহিলারা সমান অধিকারী ও পারদর্শী বলে দাবি উঠেছে। চলচ্চিত্রের বিষয় বস্তুর মতো এই লড়াই চলেছে বাস্তব জগতেও। দেশের ছোট বড় বহু মন্দিরে পুজো, যজ্ঞ, বিবাহ সম্পাদনের ক্ষেত্রে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করেন মহিলা পুরোহিতও। তবে এবার এই বিষয়টিকেই আধিকারিক রূপ দিচ্ছে তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার, যা সম্প্রদায় ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

তামিলনাড়ুর হিন্দুধর্ম এবং দাতব্য এন্ডোমেন্টস মন্ত্রকের (এইচআর অ্যান্ড সিই) মন্ত্রী পিকে সেখরবাবু গত ১৩ জুন রবিবার আগামা শাস্ত্রে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিলাদের ও অব্রাহ্মণদের মন্দিরে পুরোহিত হিসাবে নিয়োগের ঘোষণা করেন। এছাড়া পুরোহিত হিসাবে কাজ করতে ইচ্ছুক মহিলাদের ও অব্রাহ্মণদের আগামা শাস্ত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তার প্রস্তাব পাঠানো হবে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের কাছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ডিএমকে সরকার গঠনের ১০০ দিনের আগেই রাজ্যের ৩৬ হাজারের বেশি মন্দিরে পুরোহিত নিযুক্তি সম্পন্ন হবে। এছাড়া গ্রামীণ ভারতে অব্রাহ্মন এবং মহিলা পুরোহিতের প্রচলন অনেক আগে থেকেই, অসংখ্য মন্দিরে তা লক্ষ্য করা যায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে একাধিকবার অব্রাহ্মণদের পৌরহিত্যের অধিকার প্রদানের জন্য এইচআর অ্যান্ড সিই আইনের সংশোধনের আবেদন জানানো হয়েছিল। ২০১৫ সালে আদালত সায় দিলে ডিএমকে মন্ত্রী এম কারুণানিধির নেতৃত্বে এইচআর অ্যান্ড সিই-র পক্ষ থেকে অব্রাহ্মণদের প্রশিক্ষণ চালু হয়। অপর দিকে ২০০৮ সালে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এক মহিলার বাবা প্রয়াত হবার পর মহিলাকে পুরোহিত হিসাবে নিয়োগের অনুমতি দিয়েছিল। উক্ত মন্দিরে কেবল পুরুষই পুজো দিতে পারবে, সে নিয়ে কোনও আইন কিংবা যুক্তিপূর্ণ ভিত্তি নেই বলে জানানো হয়েছিল আদালতের রায়ে।

কেবল তামিলনাড়ু নয় প্রতিবেশী রাজ্য কেরালাতেও ২০১৭ সালে এক দলিত ব্যক্তিকে মন্দিরে পুরোহিত হিসাবে নিয়োগ করা হয়। আবার সদ্য বিবাহিত অভিনেত্রী দিয়া মির্জার বিয়ে দিয়েছেন মুম্বাইয়ের খ্যাতনামা মহিলা পুরোহিত শিলা আট্টা।
আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও এর অজস্র উদাহরণ আছে। মন্দিরে পুজো থেকে শুরু করে বিয়ে এমনকি পরলৌকিক ক্রিয়াও সারছেন রাজ্যের মহিলা পুরোহিতরা। সুপরিচিত মহিলা পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিক ২০০৯ সাল থেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি এখন পর্যন্ত ৪০ টিরও বেশি বিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও সেমন্তী, মৌসুমি, রামা রায়, সুলতা মন্ডলরাও এই কাজের জন্য সুখ্যাতি লাভ করেছেন।

কিন্তু তামিলনাড়ুর এই ঘোষণার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। অধিকাংশ রাজ্যবাসী ও সমাজকর্মীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে, আবার অনেকে এই ক্ষেত্রে মহিলাদের সুরক্ষা, মহিলাদের পবিত্র স্থানে প্রবেশের সংশয়-ভয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আবার মহিলাদের অশুচি ভাবার মত সেকেলে ধারণা এবং পশ্চাদপদতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে সেখানকার বিরোধী দল বিজেপিও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here