লকডাউনে ট্রেন লাইন দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরা হল না পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের, ফিরল ছিন্ন ভিন্ন দেহ

সাথী প্রামানিক, আমাদের ভারত, পুরুলিয়া, ২৬ এপ্রিল: লকডাউনে ট্রেন লাইন ধরে হেঁটে আর বাড়ি ফিরতে পারলেন না। ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্ন ভিন্ন দেহ বাড়িতে গেল পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের।

লকডাউনে একমাস আটকে থেকে এগারো মাসের ছেলের জন্য অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল পুরুলিয়ার কেন্দা থানার কোন পাড়া গ্রামের অক্ষয় মাহাতো(২৭)। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা থানার হাদল গ্রামে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি।প্রায় মাসখানেক ঠিকা সংস্থার অধীনে কোনওভাবে দিন কাটছিল তাঁর। কিন্তু সেখানে সেভাবে মিলছিল না খাবার। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে আসছিল জমানো টাকা। কাজ বন্ধ, চঞ্চল মন কিছুতেই কর্মস্থলে নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি তিনি। তাই শেষ পর্যন্ত হেঁটে বাড়ি ফেরার জন্য বেরিয়ে পড়েছিলেন। পিংলা থেকে রাস্তা, জঙ্গল পার হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের  খড়গপুর ডিভিশনের জগপুর এলাকায় রেললাইনের ট্র্যাকে ওঠেন। হাঁটাপথে রাস্তা ভুলে যাওয়ার আশঙ্কায় রেললাইন ধরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে তাঁর পরিবারের ধারণা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত তাঁকে বাড়ি ফিরতে দিল না।জগপুর থেকে ভাদুতলা আসতেই শুক্রবার ভোররাতে তাঁকে পেছন থেকে ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়ে যায় একটি পণ্যবাহী ট্রেন। সেখান থেকে চন্দ্রকোনা জিআরপি ওই পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করে বাঁকুড়ায় ময়নাতদন্তে পাঠায়। ওই দিন রাতে কোনাপাড়ার গ্রামে ওই শ্রমিকের ছিন্ন ভিন্ন দেহ বস্তাবন্দি হয়ে বাড়িতে পৌঁছায়।

রুটি রুজির টানে বাবা, মা, স্ত্রী ও এগারো মাসের পুত্র সন্তানকে বাড়িতে রেখে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে ভিন জেলায় গিয়েছিলেন অক্ষয় মাহাতো। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলায় একটি সেতু তৈরির কাজ করছিলেন ঠিকা সংস্থার ওই শ্রমিক। বাবার দেহ চাক্ষুষ করলেও উপলব্ধি করতে পারল না শিশু পুত্র।  অপ্রত্যাশিত এই যুবকের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা গ্রাম।


   
শনিবার স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ গুরুপদ টুডু শোকার্ত পরিবারের কাছে গিয়ে সান্ত্বনা জানান। ওই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here