ভাড়া দিয়ে টিকিট কেটে বাড়ি ফেরা শ্রমিক ও রোগীরা অব্যবস্থার শিকার

আশিস মন্ডল, রামপুরহাট, ১৮ মে: পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেন ভাড়া দিতে হবে না। রাজ্য সরকার ট্রেন ভাড়া বহন করবে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরও গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে শ্রমিকদের। সোমবার ব্যাঙ্গালোর থেকে ফেরা স্পেশাল শ্রমিক ট্রেনের যাত্রীদের এমনই অভিযোগ। পানীয় জল ও খাবার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। এমনকি দক্ষিণ ২৪ পরগণা থেকে দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের কাছাকাছি স্টেশনে না নামিয়ে মালদা নিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

রবিবার ব্যাঙ্গালোর স্টেশন থেকে ছাড়ে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন। প্রায় বারোশো যাত্রী নিয়ে ট্রেন যাত্রা শুরু করে। ট্রেনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুর্গাপুর, আসানসোল, বীরভূম, মালদার যাত্রী ছিল। কিন্তু প্রত্যেককে ৮৪০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে মালদা পর্যন্ত টিকিট কাটতে হয়। ট্রেন দুর্গাপুর স্টেশনে থামলেও কাউকে নামতে দেওয়া হয়নি। এনিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে ট্রেন রামপুরহাট স্টেশনে থামতেই যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মেদিনীপুরের বাসিন্দা শেখ রফিক বলেন, “আমার বাড়ি খড়্গপুড়ে। কিন্তু আমাকে সেখানে না নামিয়ে মালদা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ট্রেনের বাথরুমে জল নেই। পানীয় জল কিংবা খাবার দেওয়া হচ্ছে না”। এই বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশের বাধা টপকে ২৬ জন যাত্রী নেমে পড়েন রামপুরহাটে। তাঁরা সকলেই বীরভূমের বাসিন্দা। সকলেই ব্যাঙ্গালোর থেকে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের দুপুর থেকে স্টেশনের দ্বিতীয় শ্রেণির প্রতিক্ষালয়ে বসিয়ে রাখে রেল পুলিশ। বিকেল গড়িয়ে গেলেও তাদের দেওয়া হয়নি কোনও খাবার কিংবা পানীয় জল।

মাড়গ্রামের বাসিন্দা ফজলে হাসমত আব্বাসি বলেন, “মাস তিনেক আগে চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্গালোরে গিয়েছিলাম। লকডাউনে আটকে পড়েছিলাম। ট্রেন আমাদের রাজ্যে ঢুকতে অব্যবস্থা শুরু হয়। প্রথমে ট্রেন হিজলিতে থামে। কিন্তু কাউকে নামতে দেওয়া হয়নি। এরপর আসানসোল, দুর্গাপুর স্টেশনে থামলেও কাউকে নামতে দেওয়া হয়নি। সিউড়িতে আমাদের নামানোর কথা থাকলেও নামতে বাধা দেয় পুলিশ। বাধ্য হয়ে আমরা রামপুরহাটে নেমে পড়ি। কারণ এখান থেকে আমাদের বাড়ি খুব কাছে”।

ওই ট্রেনেই নিকট আত্মীয়ের চিকিৎসা করিয়ে ফিরছিলেন নলহাটি থানার দেবগ্রামের সাবর্ণি গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাস এবং ট্রেন ভাড়া বাবদ ৯৮০ টাকা দিতে হয়েছে কর্ণাটক সরকারকে। রামপুরহাট থেকে আমাদের বাড়ি কাছে তাই নেমে পড়লাম। কিন্তু স্টেশনে চরম অব্যবস্থা। খাবার কিংবা জল না দিয়ে চার ঘণ্টা ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে এখানে”। দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে থেকে ধৈর্য্য হারিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাড়ি ভাড়া করে সকলে বাড়ি চলে যায়।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here