পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে লাগাতার ধর্ণায় কর্মচ্যুতরা, পাশে নেই শাসক দল, সান্ত্বনা কংগ্রেস-বিজেপির

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৭ আগস্ট: বহিষ্কৃত স্বাস্থ্য কর্মীদের অবস্থান আন্দোলন চলছেই। কাজ হারিয়ে দিশেহারা ১৫০ জন মহিলা পুরুষ। মানবিকতার কারণে তাঁদের পাশে থাকছেন অনেক সমাজসেবী। এর মধ্যেই পুরুলিয়ার দেবেন মাহাত সদর হাসপাতালে আন্দোলনরত ওই স্বাস্থ‍্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এবার তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা বাঘমুন্ডি বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাত। তিনি অভিযোগ করলেন প্রশাসন ও শাসক দলের নেতাদের গাফিলতির শিকার এই সব বেকার যুবক যুবতীরা।

গত ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা পরিস্থিতির সময় পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে রোগীদের দেখাশোনা ও হাসপাতালের বিভিন্ন কাজের জন‍্য ১৫০ জন অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয়। বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ওই যুবক যুবতীরা কাজে যোগ দেন। হাসপাতালে রোগীদের পরিচর্যা ছাড়াও সাফাই কাজ, সিকিউরিটি গার্ড, ওয়ার্ড বয়, সন্দেহজনক নমুনা সংগ্রহ, রোগী ভর্তির রেজিস্টার নথিভুক্ত সহ সমস্ত কাজ করে আসছিলেন। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছিলেন তাঁরা। সারা রাজ্যের সঙ্গে পুরুলিয়াতেও ২০২২ সালে করোনার অনুমোদন বন্ধ হয়ে যায়। কর্মীর অভাবে এঁদের ওই সমস্ত কাজেই বহাল রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিজস্ব তহবিল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে চার মাস ওই ১৫০ জন অস্থায়ী কর্মীর পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছিল। সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় ১৫ আগস্ট একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১৫০ জন অস্থায়ী ওই কর্মীদের বহিস্কার করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিবর্তে ৬০ জন নতুন অস্থায়ী কর্মী পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এনে সদর হাসপাতালে কাজে নিযুক্ত করা হয়। তারই প্রতিবাদে ১৫০ জন ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা হাসপাতাল চত্বরে ধর্ণায় বসেন। আজ দ্বিতীয় দিন পেরিয়ে গেলেও রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে কেউ তাঁদের খোঁজ নিতেও আসেননি বলে আক্ষেপ কর্মচ্যুতদের।

আজ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাত তাঁদের সাথে দেখা করতে আসেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তিনি বহিস্কৃত স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, “পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে কর্মী সংকট রয়েছে। সেই শুন্যতা পূরণ করতে স্বাস্থ‍্য দফতরে চাপ দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। সেটা করতে এত দেরি কেন করলো প্রশাসন?” জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০৭ জন অস্থায়ী কর্মীর অনুমোদন মঞ্জুর করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানে এই কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি করেন নেপালবাবু।

তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে যাঁরা কাজ করে এসেছেন তাঁরা নানা লাঞ্ছনা অতিক্রম করেছেন। কেও কেও মারাও গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। তাঁদের স্ত্রীরাও আজ বহিস্কৃত। কোনও ভাবেই এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যাবে না।” প্রাক্তন এই কংগ্রেস বিধায়ক রাজ‍্যের স্বাস্থ্য সচিবকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে দাবি করেন।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here