গোসাবার বিধায়কের নবনির্মিত বাড়ি থেকে উদ্ধার যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ২৩ জুলাই:
দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তীর চুনাখালি গ্রামের বাসিন্দা গোসাবার তৃণমূল বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ। মৃতের নাম লাবণ্য হালদার(২৩)। দীর্ঘ বছর ধরে জয়ন্ত নস্করের কাছেই থাকতো লাবণ্য। বৃহস্পতিবার সকালে বিধায়কের নবনির্মিত বাড়ির দোতলার ঘর থেকে উদ্ধার হয় এই যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ। ঘটনার খবর পেয়ে বাসন্তী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। কি কারণে আত্মহত্যা করলেন ঐ যুবক সেটা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

২০১১ সালে রাজনৈতিক কারণে খুন হয়েছিলেন লাবন্যের বাবা তরুণ হালদার ও মা কৃষ্ণা হালদার। বাবা মা মারা যাওয়ার পর লাবণ্য ও তার ছোট বোন অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। সেই সময় জয়ন্ত নস্কর তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে থেকেই পড়াশোনা করে লাবণ্য। নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবেই লাবণ্যকে মেনে নিয়েছিল জয়ন্তর গোটা পরিবার। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য সোনারপুরে ঘর ভাড়া নিয়ে থেকে পড়াশোনা করতে থাকে সে। সেখান থেকেই কিছুদিন আগে বিধায়কের বাড়িতে ফিরে যায় এই যুবক। তবে সেখানে ফিরলেও গত কয়েকদিন যথেষ্ট মনমরা হয়ে ছিল সে। এ বিষয়ে কাউকেই কিছু জানায়নি বলে দাবি বিধায়কের পরিবারের।

জয়ন্ত নস্কর বলেন, “রাতে খায়নি। সকালে ঘর থেকে বের হয়নি। কেন খায়নি, কি হয়েছে জানতে গিয়ে দেখি ঘরের মধ্যে সিলিং ফ্যানে গলায় গামছা দিয়ে ঝুলছে। কেন এমন করলো বুঝতে পারছি না”। এই ঘটনার পিছনে প্রেমে প্রত্যাখ্যানের বিষয় থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। লাবণ্যের ঘর থেকে তিনটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে সেগুলিতে মৃত্যুর কোনও কারণ সে লিখে যায়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশ। লাবণ্যর দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেগুলি ঘেঁটে এ বিষয়ে তদন্ত করতে চাইছে তারা। এই ঘটনায় এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here