ভুল শুধরে রামপুরহাটে ভবঘুরেদের পাশে আরপিএফ

আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ২৯ এপ্রিল: এবার ভবঘুরেদের নিজের হাতে খাবার পরিবেশন করলেন পূর্ব রেলের রামপুরহাট শাখার আরপিএফ অফিসার ও পুলিশ কর্মীরা। তাদের পক্ষ থেকে আগে প্রত্যেক ভবঘুরেদের হাতে একটি করে সাবান ও মাস্ক ধরিয়ে দেওয়া হয়। সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় তাদের।

লকডাউনের পর দিন থেকেই রামপুরহাট স্টেশন সহ রামপুরহাট শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভবঘুরেদের দুবেলা খাবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় বীরভূম জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ও রামপুরহাট প্রেসক্লাব। মূলত রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগেই শুরু হয় দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা। প্রথম থেকেই খোলা আকাশের নিচে চলছিল খাওয়ানোর ব্যবস্থা। তার ফলে খাবারে কখন পড়ছিল পাখির বিষ্টা। কখন কুকুর-শুয়োরদের সঙ্গে এক আসনে খেতে হচ্ছিল তাদের। তাই ভবঘুরেদের কষ্টের কথা ভাবে প্ল্যাটফর্মের বাইরে টিকিট কাউন্টারের সামনে খাওয়ানোর চিন্তাভাবনা শুরু করা হয়। তাতে বাধার সৃষ্টি করেন আরপিএফ অফিসাররা। সেই অফিসাররাই এবার মানবতার তাগিদে ভবঘুরেদের
স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলেন। সেই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই প্রত্যেকের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন তাঁরা।

আরপিএফ ইনস্পেক্টর অমিত কুমার গিরি বলেন, “এক মাসের বেশি দিন ধরে সাংবাদিক বন্ধুরা খাইয়ে আসছেন। আমি প্রায় প্রতিদিন দেখতে যেতাম। তখনই তাদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করি। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির জন্য একটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে আমরা ওদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি। যেহেতু ওরা স্টেশনেই জীবনজীবিকা নির্বাহ করে, সেহেতু আমরা যতদিন পারব সমস্ত কর্মীদের প্রচেষ্টায় খাইয়ে যাব”।

সাংবাদিক মহম্মদ নাসিরুদ্দিন বলেন, “আমরা লকডাউনের পরদিন অর্থাৎ ২৬ জুলাই থেকে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভবঘুরে এবং কিছু আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের দুবেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। শপথ নিয়েছি যতদিন লকডাউন চলবে আমাদের এই প্রচেষ্টা থমকে যাবে না। আরপিএফ আমাদের সঙ্গে হাত মেলানোয় বাড়তি উৎসাহ পেলাম”।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here