মেয়াদ শেষের ১০ মাস আগে আচমকাই ইস্তফা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর

আমাদের ভারত, ১৪ মে: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিয়েছেন বিপ্লব দেব। ত্রিপুরার রাজ্যপালের কাছে গিয়ে শনিবার ইস্তফাপত্র দিয়ে এসেছেন বিপ্লব। আগামী বছর ত্রিপুরা বিধানসভার ভোট। তার আগেই ইস্তফা দিলেন বিপ্লব। তার কার্যকাল আরও দশ মাস বাকি ছিল। এক লাইনের ইস্তফাপত্রে বিপ্লব দেব আজ অর্থাৎ ১৪ মে শনিবার থেকেই ইস্তফা কার্যকর করতে অনুরোধ করেছেন।

শনিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে হঠাৎ এই ইস্তফায় রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিপ্লবের ইস্তফার পর বিকেল পাঁচটা নাগাদ বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে ওই বৈঠকের নতুন নেতা নির্বাচিত করা হবে। সোনা যাচ্ছে নতুন নেতার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ত্রিপুরার বিজেপির সভাপতি মাণিক সাহা। যদিও তিনি বিধায়ক নন। তাকে ছয় মাসের মধ্যে উপ নির্বাচনে জিততে হবে। আবার একাংশের মতে জনজাতি ভোট টানতে উপমুখ্যমন্ত্রীর যিষ্ণু দেববর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী করতে পারে বিজেপি।

আগামী বছর ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচন। অনেকেই মনে করছেন একটি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হচ্ছিল সেখানে তাই সেটা মোকাবিলা করতেই বিপ্লবকে সম্ভবত সরানো হয়েছে। এক্ষেত্রে অনেকেই মনে করছেন উত্তরাখান্ড মডেলকে অনুসরণ করা হয়েছে। যেমন দেবেন্দ্র সিং রাওয়াতকে সরিয়ে পুষ্কর সিং ধামীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল। পুষ্করকে নিয়ে আসার পেছনে ছিল কুমায়ুন অঞ্চলের ভোট। ত্রিপুরার জনজাতি ভোট ফ্যাক্টর।

২০১৮ সালের ৯ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন বিপ্লব দেব। কিন্তু এখন আবার সংগঠনের কাজে ফিরছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিপ্লব। সংবাদমাধ্যমকে বিপ্লব দেব বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দেখানো পথে এতদিন কাজ করে চলেছেন। তবে এবার দল তাকে সংগঠনের কাজে লাগাতে চায়। তার বক্তব্য, “দল চাইছে ২০২৩ এর নির্বাচনের আগে সংগঠনের শক্তি বাড়াতে। দীর্ঘসময় সরকারে থাকার জন্য সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো দরকার। সংগঠন থাকলে তবেই সরকার থাকবে। তাই দল আমাকে সংগঠনের কাজে লাগাতে চাইছে।” তাঁর কথায়, “এতদিন প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে কাজ করে এসেছি এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ইচ্ছেতেই সংগঠনের কাজ করব।”

তবে এও শোনা যাচ্ছে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই তাঁর এই পদক্ষেপ। সুদীপ রায় বর্মন সহ কয়েকজন বিধায়কের দলত্যাগ বিপ্লবের বিরুদ্ধে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে শুক্রবার অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার পরে শনিবার ইস্তফা দেন বিপ্লব। ফলে সব মিলিয়ে বিপ্লবের ইস্তফা জমিয়ে তুলল ত্রিপুরার রাজনীতি।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here